নিউজ ডেস্ক: সারা দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে মহা শিবরাত্রি। সামান্য ফুল বেলপাতা ও এক লোটা জলে প্রসন্ন হয়ে যান দেবাদিদেব মহাদেব। মনে করা হয়, আমাদের দেশে প্রধান ১২ টি জ্যোতির্লিঙ্গ রয়েছে। এরমধ্যে ষষ্ঠ জ্যোতির্লিঙ্গ হল কাশী বিশ্বনাথ। বিশ্বের সর্বাধিক প্রাচীনতম শহরগুলির একটি বারাণসী। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে গঙ্গা, এই গঙ্গার পশ্চিম তীরে অবস্থিত কাশী বিশ্বনাথ মন্দির।
ধর্মীয় গ্রন্থ অনুযায়ী, বারানসিতে ৩০ কোটি দেবদেবী বসবাস করেন। পৌরাণিক কাহিনী মতে, ভগবান বিষ্ণু ও ব্রহ্মার মধ্যে তর্ক বাঁধে, কে অধিক শক্তিশালী। এই তর্ক সমাপ্ত করতে মহাদেব বিশাল এক লিঙ্গের আকার ধারণ করেন। তারপর ভগবান বিষ্ণু এবং ব্রহ্মাকে লিঙ্গের উৎস ও উচ্চতা খুঁজে বের করতে বলেন। কিন্তু দুই দেবতা মিলে চেষ্টা করেও তা পেরে উঠতে পারেননি। কিন্তু ব্রহ্মা মিথ্যে কথা বলে ধরা পড়ে যান। তখন রেগে গিয়ে ব্রহ্মা, শিবের প্রতি অপমানজনক শব্দ প্রয়োগ করেন।
ব্রহ্মার অপমানজনক শব্দ শুনে শিবের রাগ থেকে সৃষ্টি হয় কালভৈরব এর। কালভৈরব ব্রহ্মার চতুর্থ মাথা কেটে দেন। অভিশাপ দেন ব্রহ্মার কখনো পুজো করা হবে না। মনে করা হয়, শিবের রাগ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে শিব লিঙ্গরূপী দিব্যজ্যোতি নির্গত হয়েছিল। তাদের মধ্যে একটি কাশী বিশ্বনাথ।
পুরান মতে, শিবরাত্রির দিন মহাদেবের সাথে বিয়ে হয়েছিল দেবী পার্বতীর। শিবরাত্রি পূর্ণ তিথিতে আলোর রোশনাই সেজে ওঠে গোটা কাশি। সকাল থেকেই উপচে পড়া ভিড় ভক্তদের। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। গঙ্গায় স্নান সেরে বিশ্বনাথ মন্দিরে পুজো দেন। শুধু কাশি না সারা দেশে বিভিন্ন শিব মন্দিরে ভিড় জমান ভক্তরা। দিনরাত মিলে চলে শিবের বন্দনা। ভক্তরাও নিজের মনস্কামনা পূর্ণ করতে প্রার্থনা করেন মহাদেবের কাছে।