নিউজ ডেস্ক: প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভে এখনও পর্যন্ত ৬২ কোটিরও বেশি তীর্থযাত্রী ত্রিবেণীর পবিত্র জলে পুণ্যস্নান করেছেন। হাজার হাজার তীর্থযাত্রীর যানবাহনও মহাকুম্ভ অঞ্চলে উপস্থিতি হয়েছে, তা সত্ত্বেও মহাকুম্ভ নগরের বাতাস দূষিত হয়নি। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের তরফ থেকে প্রকাশিত এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স থেকে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। জানা গিয়েছে এত সমাগমের পরেও মহাকুম্ভ অঞ্চল গ্রিন জোনে ছিল।
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের পরিবেশ পরামর্শদাতা ইঞ্জিনিয়ার শাহিক শিরাজ জানিয়েছেন যে, মহাকুম্ভ চলাকালীন বায়ুর গুণমানের দিক থেকে মহাকুম্ভ অঞ্চল গ্রিন জোনে ছিল। তাঁর মতে, ১৩ জানুয়ারি পৌষ পূর্ণিমায় মহাকুম্ভের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল ৬৭। একইভাবে ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তিতে ৬৭, ২৯ জানুয়ারি মৌনী অমাবস্যায় ১০৬, ৩ ফেব্রুয়ারি বসন্ত পঞ্চমীতে ৬৫ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি মাঘী পূর্ণিমায় ৫২ ছিল। উল্লেখ্য, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ১০০-এর মধ্যে ভালো এবং ১০০ থেকে ১৫০-এর মধ্যে মাঝারি ধরা হয়। এইভাবে মহাকুম্ভে শুধুমাত্র মৌনী অমাবস্যায় বায়ুর গুণমান কিছুটা মাঝারি ছিল। বাকি সব দিন বায়ুর গুণমান ভালো ছিল। অর্থাৎ সব মিলিয়ে মোটের ওপর মহাকুম্ভ চলাকালীন ৪২ দিন পুরো অঞ্চল গ্রিন জোনে ছিল।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের অ্যাপ ‘সমীর’-এ দেশের বিভিন্ন শহরের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসের বায়ু গুণমানের রিপোর্টের তুলনামূলক তথ্য বলছে যে এই সময় মহাকুম্ভের অবস্থা চণ্ডীগড়ের চেয়েও ভালো ছিল। ১৩ জানুয়ারি পৌষ পূর্ণিমায় চণ্ডীগড়ের বায়ু গুণমান সূচক ছিল ২৫৩, ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তিতে ২৬৪, ২৯ জানুয়ারিতে ২৩৪, ৩ ফেব্রুয়ারি বসন্ত পঞ্চমীতে ২০৮ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি মাঘী পূর্ণিমায় ৮৯।
একইসঙ্গে এ বিষয়ে নগর নিগম প্রয়াগরাজের সহকারী ইঞ্জিনিয়ার রাম সাক্সেনা জানিয়েছেন, বায়ু দূষণের সমস্যা এড়াতে নগর নিগম ৯৬০০ কর্মী নিয়োগ করেছে। এছাড়া ৮০০-এর বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী সারাক্ষণ কাজ করেছেন। যেসব অঞ্চলে বায়ু দূষণের আশঙ্কা ছিল সেখানে ওয়াটার স্প্রিংকলার দিয়ে জল ছিটানো হয়েছে। নগর নিগম রাতে শহরের রাস্তা ধুয়েছে। জল নিগম থেকে ১০ হাজার লিটারের ৮টি বড় এবং ৩ হাজার লিটারের ৪টি ছোট জলের ট্যাঙ্কার নেওয়া হয়েছে। শহরের ব্যস্ততম চৌমাথার মধ্যে এমএনআইটি চৌমাথা, তেলিয়ারগঞ্জ, ঝুঁসি আবাসন এবং নগর নিগম কার্যালয়ে তিন জায়গায় অ্যান্টি-পলিউশন সেন্সর লাগানো হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন স্প্রিংকলার দিয়ে জল দেওয়া হয়েছে।