নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার হালতু পূর্বপল্লিতে নিজের বাড়ি থেকে সোমনাথ রায়, তাঁর স্ত্রী সুমিত্রা রায় ও আড়াই বছরের ছেলে রুদ্রনীলের দেহ উদ্ধার হয়। গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন দম্পতি। আত্মহত্যার আগে ছেলেকে হত্যা করেন তাঁরা। এর পর ছেলেকে ওড়না দিয়ে বুকে বেঁধে গলায় ফাঁস দেন সোমনাথ। কিন্তু সন্তানকে নিয়ে ওই দম্পতি কেন আত্মহত্যা করলেন, তার কারণ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। উঠে এসেছে দেনার কথা। আবার পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের অভিযোগও সামনে আসছে। এই পরিস্থিতিতে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত সোমনাথ রায়ের মামা প্রদীপ কুমার ঘোষাল এবং মামি নীলিমা ঘোষালকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, সোমনাথবাবু রামলাল বাজার – গড়িয়া রুটে অটো চালাতেন। ২টি অটো ছিল তাঁর। একটি নিজে চালাতেন, আরেকটি ভাড়া দিতেন। ছেলের অস্ত্রোপচারের জন্য ১টি অটো বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন সোমনাথ। এছাড়া বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে ধার নিয়েছিলেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে ছেলের ২টি অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। আরও ১টি অস্ত্রোপচার করানোর দরকার ছিল। সেজন্য টাকা জোগাড় করা শুরু করেছিলেন তিনি। নিহত সুমিত্রাদেবীর বাবা দাবি করেছেন, সোমনাথদের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ ছিল তাঁর মামার। যে বাড়িতে সোমনাথ থাকতেন সেটি ভাগ করার পরিকল্পনা চলছিল। সেজন্য তাদের নানা ভাবে মানসিক নির্যাতন করতেন মামা ও মামি।
ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া দেওয়ালে লেখা রয়েছে বেশ কিছু কথা। তাতে এই পরিণতির জন্য মামা – মামিকেই দায়ী করেছেন সোমনাথ। যদিও মামা – মামির দাবি, সোমনাথের মায়ের পেনশনের পুরো টাকা সে-ই ব্যবহার করে। ফলে তাঁদের দোষারোপ করা অনর্থক। কিন্তু বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের থানায় নিয়ে গিয়েছে পুলিশ।