নিউজ ডেস্ক: পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ শয়ে শয়ে সবুজ সাথীর সাইকেল পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে ঝাড়গ্রামের খোলা বাজারে। মরচে পড়া জরাজীর্ণ সাইকেলগুলিতে জমেছে ধুলোর আস্তরণ । অথচ সেই সমস্ত সাইকেল দেখভাল করার কেউই নেই। কেন বছরের পর বছর ধরে এই সাইকেল গুলি এভাবে পড়ে আছে তা প্রশাসনের কেউই নাকি জানে না। প্রশাসনের অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যায় কোভিডের গল্প। সেই সময় নাকি অনেক পড়ুয়া সাইকেল নেয়নি। সেগুলোই নাকি ডাঁই হয়ে পড়ে আছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে স্কুল পড়ুয়াদের জন্য ‘সবুজ সাথী’ নামক প্রকল্প চালু করে তৃণমূল সরকার। যে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল সরকারি ও সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত স্কুলের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের নতুন সাইকেল প্রদান করা।
এমনিতেই সবুজ সাথী প্রকল্পে যে সাইকেলগুলো পড়ুয়াদের দেওয়া হয় তার গুণগত মান নিয়ে প্রথম থেকেই ছিল প্রশ্ন। এবার আবার সাইকেল আসার পর বিলি না হয়ে পড়ে পড়ে নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হেলদোল নেই প্রশাসনের। বিষয়টি নিয়ে পুরুলিয়া জেলা পরিষদ সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো বলেন, ‘কোনও পড়ুয়াকে বঞ্চনা করা হয়নি। কোভিড সময়কাল থেকে সেখানে সাইকেলগুলি জমা হয়ে রয়েছে। বিষয়টি নজর দেওয়া দরকার। আমরাও দেখছি।’
বিরোধীদের অভিযোগ, সবই হচ্ছে কাটমানির জন্য। পড়ুয়াদের বঞ্চিত করে এখান থেকেও তৃণমূলের নেতারা নিজের পকেট ভরাবে। সেই অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা তৃণমূল সভাপতি বলেন, ‘সবুজ সাথী প্রকল্পে রাজ্যের পড়ুয়ারা আজ লাভবান হয়েছে। এই প্রকল্প রাজ্যে স্বার্থক হয়েছে। সাইকেল জমা থাকার ক্ষেত্রে বর্ধিত হারে সাইকেল বেড়ে যাওয়া বা অনেকের নামে সাইকেল বরাদ্দ হওয়ার পরেও সাইকেল না নেওয়া, এইসমস্ত কারণে বর্ধিত সাইকেল সেখানে জমা থাকতে পারে। এখানে রাজনীতির কোনও প্রশ্নই নেই।’
তবে এমন ঘটনা নতুন নয়, কয়েক বছর আগেও মুর্শিদাবাদের রানিগঞ্জের এক নম্বর ব্লকের সবুজ সাথী প্রকল্পের সাইকেলের অবস্থা নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন উঠছিল। একটি পরিত্যক্ত এলাকায় একগাদা সাইকেল একে অপরের গায়ে হেলিয়ে রাখা। গা বেয়ে গজিয়ে উঠেছে লতা-পাতা, লাউ গাছের ডগা। দৃশ্যত মনে হতেই পারে, সাইকেলের মাচা বানিয়ে কেউ সবজি চাষ করছেন। কিন্তু না, এটা আসলে সবুজ সাথী সাইকেলের গ্যারেজ! গ্যারেজ কারণ এক সঙ্গে প্রায় ৭০টার মতো সাইকেল রাখা রয়েছে সেখানে। মাথার ওপর টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল ত্রিপল, ঝড়ে উড়েছে যা আগেই। সাইকেলগুলি দেখলেই বোঝা যাবে, সেগুলির চাকা গড়ায়নি অনেকদিনই। রীতিমতো জং পড়েছে স্পোকে। আর এবার ঝাড়গ্রাম থেকেও ফের সেই একই ঘটনার ছবি সামনে এল।