নিউজ ডেস্ক: জাল ওষুধ নিয়ে রাজ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে আগেই। হাওড়া থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার জাল ওষুধের সন্ধান মেলার পরই জানা যায়, মূলত উচ্চ রক্তচাপের বা হাই ব্লাড প্রেসারের ওষুধ ছিল সেখানে। বেশ কিছু ওষুধ বাজেয়াপ্তও করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। তবে এবার সেই উদ্ধার হওয়া জাল প্রেশারের ওষুধকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল রাজ্য। ড্রাগ কন্ট্রোল সূত্রে খবর, ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা কিউআর কোড থেকে শুরু করে ব্যাচ নম্বর কিছুই বাদ দেয়নি, সবটাই হুবহু নকল করে জালিয়াতি চালিয়েছে। একইসঙ্গে আরও উদ্বেগের খবর তাদের কাছে যে রিপোর্ট এসেছে, তাতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে এই প্রেসারের জাল ওষুধ ইতিমধ্যেই চলে গিয়েছে প্রচুর মানুষের কাছে!
যাদের বাড়ির কোনও সদস্যের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে, তাঁরা রক্তচাপ কমানোর জন্য প্রেশারের ওষুধ খান। সকলেই মোটামুটি ‘টেলমা’ (Telma) নামটির সঙ্গে পরিচিত। সেই ‘টেলমা’ নামের ওষুধ নিয়েই এত ঝামেলা। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এমন কায়দায় ওষুধগুলো বানানো হয়েছে যে ধরার কোনও উপায় ছিল না। যে কারণে আসল-নকল সব ওষুধই সমান তালে বাজারে বিকোচ্ছিল। এভাবেই এতদিন ধরে চলছিল অসাধু কারবার। ওষুধের ব্যাচ নম্বর ০৫২৪০৩৬৭। এই ব্যাচ নম্বরের রক্তচাপের ওষুধ জাল হয়ে রাজ্যের খোলা বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনটাই জানাচ্ছে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল।
কিছুদিন আগেই টেলমা এএম ৪০ ওষুধ সম্পর্কে প্রস্তুতকারী সংস্থাকে চিঠি লিখে কয়েকটি বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছিল৷ এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে আমতায় ১ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার জাল ওষুধের হদিশ পায় রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল। এর মধ্যে মাত্র ২০ লক্ষ টাকার ওষুধ বাজেয়াপ্ত হয়। এই খবরে ক্ষুব্ধ চিকিৎসকরাও। মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টারের সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের স্বচ্ছতা বজায় রাখা উচিত। সেই সঙ্গে যারা অন্যায় করছে, তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থাও করা উচিত। চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “২০ কোটির জাল ওষুধ উদ্ধার হলেও আমি অবাক হব না। জাল ওষুধ এখন রোগীদের পেটে পেটে ঘুরছে।”