কলকাতা: সম্প্রতি রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের কাছে খবর এসেছিল জাল ওষুধ (Fake Medicine) ছড়িয়ে পড়েছে বাংলায়। এই কাজের পিছনে আছে একটি চক্র। এই খবর পেয়ে জাল ওষুধ কারবারিদের ধরতে তৎপর হয় রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোলের অফিসাররা। তল্লাশিতে উঠে আসে ভয়ানক তথ্য। গঙ্গার এপারে কলকাতা হোক অথবা ওপারের হাওড়া, দিকে দিকে সক্রিয় জাল ওষুধের চক্র।
কদিন আগেই রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল দফতরের অভিযানে হাওড়ার আমতা (Howrah-Amta) থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ২০ লক্ষ টাকার জাল ওষুধ। শুধু হাওড়াই নয়, নামী সংস্থার হার্টের জাল ওষুধ উদ্ধার হয়েছিল আগরপাড়া, টিটাগড় ও নাগেরবাজারেও। আর এবার রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের তল্লাশিতে ধরা পড়ল ২০ লক্ষ টাকার জাল ওষুধ। ইতিমধ্যেই এই ওষুধগুলি সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল দুপুরে কলকাতার (Kolkata) সবথেকে বড় পাইকারি ওষুধ ব্যবসায়ীদের ডেরা বাগড়ি মার্কেট, মেহতা বিল্ডিং, গান্ধী কমপ্লেক্স, গিরিয়া ট্রেড সেন্টারে অভিযান চালান ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা। ৬টি দলে ছিলেন ১৯ জন ড্রাগ ইনস্পেক্টর। অভিযান চালানোর পাশাপাশি, কীভাবে QR কোড স্ক্যান করে জাল ওষুধ ধরতে হবে, পাইকারি ওষুধ ব্যবসায়ীদের তা হাতেকলমে শেখানো হয়।
মানুষকে সচেতন করতে এবার রাস্তায় ওষুধ বিক্রেতা সংগঠনের সদস্যরা-
অন্যদিকে জাল ওষুধের (Fake Medicine) ফলে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছেন বহু মানুষ। কম দামে সস্তা ওষুধ এবং ওষুধের গুণগত মান নিয়ে বারংবার প্রশ্ন তুলছে চিকিৎসক থেকে সাধারণ রোগীরা। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করছে একাধিক সংগঠন। তার মধ্যেই মানুষকে সচেতন করতে এবার রাস্তায় ওষুধ বিক্রেতা সংগঠনের সদস্যরা। তারা বলেন নিজের পূর্বপরিচিত দোকান থেকে বারকোড দেখে এবং বিল সহ ওষুধ নিতে হবে। তাহলে ভেজাল ওষুধের বাড়বাড়ন্ত অনেকটাই রোধ করা যাবে। পাশাপাশি ভিন রাজ্য থেকে যে ওষুধগুলো আসছে সেদিকে ও নজর দিতে হবে।
আরও পড়ুন: রাতের অন্ধকারেই চুপি চুপি হয়ে যাচ্ছে কাজ! পুকুর ভরাটের অভিযোগে ব্যাপক উত্তেজনা রাজারহাটে
এই সংগঠনের সদস্যদের মূল যে অভিযোগ সেটা হল মোটা অঙ্কের টাকা ছাড় এর লোভ দেখিয়ে ভিন রাজ্য থেকে জাল ওষুধ এনে এই রাজ্যে বিক্রি করছে বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। তবে সেই ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে প্ররোচনায় পা না দিয়ে সঠিক দোকান থেকে ওষুধ ক্রয় করার আবেদন করেন।
তবে কেন এত বাড়বাড়ন্ত হয়েছে জাল ওষুধের। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা যেটা জানাচ্ছেন যে, একদিকে যেমন কম দামে দেওয়া হচ্ছে ওষুধ অন্যদিকে একই ওষুধ অন্য কোম্পানি কম দামে বিক্রি করছে ওষুধের দোকানে। আর অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের দোকানদার সেই ওষুধ কম দামে কিনতে বলছেন ক্রেতাদের। সেখানেই হুঁ হুঁ করে বাড়ছে জাল ওষুধের রমরমা। তবে এই জাল ওষুধের (Fake Medicine) বারবারন্ত কমাতে পারেন একমাত্র ক্রেতারা। তাই সবার আগে ক্রেতাদের সচেতন হতে হবে।