নিউজ ডেস্ক: বুধবার লোকসভায় ওয়াকফ বোর্ড সংশোধনী বিল (Waqf Amendment Bill) পেশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এটি উপস্থাপন করা হবে। সরকারের পক্ষে বিলের পক্ষে উভয় কক্ষেই ৮ ঘন্টা করে এই বিষয়ে আলোচনার জন্য সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। বিলটি পাস করতে এনডিএ তাদের সাংসদদের বিলের সমর্থনে ভোট দেওয়ার জন্য হুইপ জারি করেছে। এনডিএ-র প্রধান মিত্র দলগুলি – টিডিপি, জেডিইউ, শিবসেনা এবং এলজেপি (রাম বিলাস) তাদের সাংসদদের বিলের সমর্থনে সরকারের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এখন সকলের নজর শিবসেনা উদ্ধব গোষ্ঠীর উপর, যারা জেডিইউ, টিডিপি এবং ইন্ডিয়া জোটে অন্তর্ভুক্ত। এই বিলটি গত বছর উত্থাপন করা হয়েছিল এবং তারপরে এটি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। এখন এই বিলটি লোকসভায় আলোচনার জন্য পেশ করা হয়েছে।
ওয়াকফ কী?
ওয়াকফ হল মুসলিম আইন দ্বারা স্বীকৃত ধর্মীয়, ধার্মিক বা দাতব্য উদ্দেশ্যে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির স্থায়ী উৎসর্গ।
ওয়াকফ সম্পত্তি কী?
ওয়াকফ সম্পত্তি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দ্বারা দান করা হয় এবং বোর্ডের সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হয়। প্রতিটি রাজ্যের একটি ওয়াকফ বোর্ড আছে। এটি একটি আইনি সংগঠন যা সম্পত্তি অর্জন, ধারণ এবং হস্তান্তর করতে পারে। ওয়াকফ সম্পত্তি স্থায়ীভাবে বিক্রি বা লিজ দেওয়া যাবে না।
ওয়াকফ সম্পত্তি কোনগুলি?
দেশজুড়ে ৩০টি ওয়াকফ বোর্ড রয়েছে। প্রধানত, কৃষিজমি, ভবন, দরগা/মাজার, কবরস্থান, ঈদগাহ, খানকাহ, মাদ্রাসা, মসজিদ, প্লট, পুকুর, স্কুল, দোকান এবং অন্যান্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ওয়াকফ সম্পত্তি হতে পারে।
দেশজুড়ে ওয়াকফ বোর্ডের মোট সম্পত্তি পরিমাণ-
ওয়াকফ বোর্ড দেশ জুড়ে ৮.৭ লক্ষ সম্পত্তির ৯.৪ লক্ষ একর জমি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে। যার আনুমানিক মূল্য ১.২ লক্ষ কোটি টাকা। ফলে ভারতীয় রেল এবং সশস্ত্র বাহিনীর পরে ওয়াকফ বোর্ড ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম জমির মালিক।
কেন বিজেপি (BJP) ওয়াকফ আইনে সংশোধনী আনতে চায়?
ওয়াকফ আইনের ৪০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যে কোনও সম্পত্তিকে ওয়াকফ হিসাবে ঘোষণার অধিকার এত দিন ছিল ওয়াকফ বোর্ডের হাতেই। ওয়াকফ বোর্ডের (Waqf Board) বিরুদ্ধে বার বার বহু গরিব মুসলিমের সম্পত্তি, অন্য ধর্মাবলম্বীদের ব্যক্তির সম্পত্তি অধিগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। নতুন সংশোধনীতে ওয়াকফ বোর্ডের সেই একচ্ছত্র অধিকার কেড়ে নিয়ে কোনও সম্পত্তি ওয়াকফ কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে জেলাশাসক বা সমপদমর্যাদার কোনও আধিকারিকের হাতে। এর পাশাপাশি ওয়াকফ বোর্ডে মহিলাদের অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। এর ফলে মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সংশোধনীর ফলে ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা বোর্ডের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন। নতুন বিল অনুসারে, একজন অমুসলিমও বোর্ডের শীর্ষপদে বসতে পারবেন। কমপক্ষে দু’জন সদস্য অমুসলিম হওয়ার কথাও বলা রয়েছে সংশোধনীতে।
আরও পড়ুন: ওয়াকফ কী? জানুন এই বিল সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
মুসলমানদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ওয়াকফ (Waqf Bill 2025) ব্যবস্থাপনার সঠিক এবং স্বচ্ছ পদ্ধতি মুসলমানদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘকাল ধরে, অনেক ওয়াকফ সম্পত্তি অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে পড়েছে, এবং এর সুবিধা মুসলিম সমাজে সঠিকভাবে পৌঁছায়নি। নতুন ওয়াকফ বিলটি এই সমস্যার সমাধান করতে পারে। এতে মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় সম্পত্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা, এবং স্বাস্থ্য সেবায় আরো বেশি সুবিধা পাবেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতের মুসলিম সম্প্রদায় একটি বৃহৎ জনগণ, এবং তাদের উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। নতুন ওয়াকফ বিলটি এদের জন্য সেই সহযোগিতার একটি বড় হাতিয়ার হতে পারে। এটি মুসলিমদের শিক্ষার মান উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এবং তাদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটাবে।
কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর মন্তব্য-
সংসদে কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে বিরোধীদের প্রবল আপত্তি ও হট্টগোলের মধ্যে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju) দাবি করেন, “সরকার কোনও ধর্মীয় সংগঠন বা তাদের কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করছে না। কোনও মসজিদের সম্পত্তিতেও হস্তক্ষেপ করছি না। ওয়াকফ বোর্ডের সঙ্গে ধর্মের কোনও যোগ নেই, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় এটি।” এরপরেই তিনি দাবি করেন যে ‘মুসলমানদের ভালোর জন্য ওয়াকফ বিল’ আনছে মোদী সরকার।