নিউজ ডেস্ক: আজ স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ দুর্নীতি মামলার রায়দান করল সুপ্রিম কোর্ট। ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্ট ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের যে নির্দেশ দিয়েছিল, সেটাই বহাল রাখল শীর্ষ আদালতে।
অর্থাৎ কে যোগ্য, কে অযোগ্য? উত্তর মিলল না সুপ্রিম কোর্টেও। এসএসসি নিয়োগ মামলায় ঠিক কতটা দুর্নীতি রয়েছে দীর্ঘ তদন্তেও জানা গেল না। ফলে ২০১৬ সালের গোটা প্যানেলই বাতিল করে দিল শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার রায় দানের পরেই চাকরি গেল ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীর। খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে চাকরিহারাদের হাহাকার। ময়দান চত্বরে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ।
রাজ্যের স্কুলগুলিতে পঠনপাঠন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ-
আজ সুপ্রিম রায়দানের পরেই চাকারিহারারা যেমন কান্নায় ভেঙে পড়েছেন, তেমনি রাজ্যের স্কুলগুলিতে পঠনপাঠন নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে শিক্ষা দফতরের। প্রশ্ন উঠেছে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হব। কিন্তু, এই সময়ের মধ্যে রাজ্যের বহু স্কুলে এক ধাক্কায় শিক্ষক সংখ্যা অনেক কমে যাওয়ায় পড়ুয়াদের পড়াশোনায় সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছে শিক্ষক মহল।
২৬ হাজার জনের চাকরি বাতিল হওয়ায় রাজ্যের সমস্ত বহু স্কুল সমস্যায় পড়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা ব্লকের অর্জুনপুর হাই স্কুল । শীর্ষ আদালতের রায়ের ফলে এক ধাক্কায় এই স্কুলে শিক্ষকর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম হয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, অর্জুনপুর হাই স্কুলে মোট শিক্ষক শিক্ষিকার সংখ্যা হল ৬০ জন। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে গোটা প্যানেল বাতিল হওয়ায় চাকরি হারালেন এই স্কুলের ৩৬ জন শিক্ষক। ফলে বর্তমানে এই স্কুলে মোট শিক্ষক শিক্ষিকার সংখ্যা হল নেমে দাঁড়ালো ২৪ জনে। এছাড়াও ৭ জন পার্শ্ব শিক্ষক রয়েছেন এই স্কুলে। স্কুলের মোট পড়ুয়া সংখ্যা হল ১০ হাজার জন। একসঙ্গে এতজন শিক্ষক শিক্ষিকা চলে যাওয়ায় কীভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা হবে? তা নিয়ে মাথায় হাত স্কুল কর্তৃপক্ষের। প্রসঙ্গত, এই রকম সমস্যা শুধু এই স্কুলেই নয় বরং আরও অনেক স্কুলেই দেখা দিচ্ছে।