মালদা: আদিনা মসজিদের তলাতেই আদিনাথ মন্দির (Malda Adinanth Temple)? মালদহের ঐতিহ্যশালী এই মন্দির পুনরুদ্ধার নিয়ে এবার রাজ্যসভায় সরব হয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (samik bhattacharya)।
শমীক ভট্টাচার্যর মন্তব্য-
তাঁর মন্তব্য, এর আগে বাইরের শাসকরা রাজ্যের একাধিক পুরোনো ইতিহাস বিজড়িত মন্দির ধ্বংস করেছে, আর বর্তমানে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ নির্দিষ্ট দিনে আদিনাথ মন্দিরে (Adinanth Temple) হামলা চালাচ্ছে। শমীকের আরও মন্তব্য, বর্তমানে আদিনাথ মন্দিরকে আদিনা মসজিদ বলে সারাবিশ্বে প্রচার করা হচ্ছে। এরপরই কেন্দ্র সরকার ও আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকে তাঁর অনুরোধ ওই জায়গায় সমীক্ষা চালিয়ে হিন্দুদের আদিনাথ মন্দির রক্ষা করা হোক। কারণ এই মন্দির ভারতের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। তাই যে করেই হোক এই মন্দির মন্দির রক্ষা করা হোক।
আদিনা মসজিদ আসলে ‘আদিনাথ মন্দির’ ?
আদিনা মসজিদ (Adina Masjid) নাকি মন্দির, তা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য বহুদিন থেকেই৷ বছর তিনেক আগেও হিন্দু মহাসভার তরফে দাবি করা হয়েছিল, আদিনা মসজিদ আসলে ‘আদিনাথ মন্দির’৷ তারপর অবশ্য বিষয়টি থিতিয়ে যায়৷ এই মসজিদের ইতিহাস নিয়েও দ্বিমত রয়েছে৷
আদিনা মসজিদ আসলে ‘আদিনাথ মন্দির’: হিরণ্ময় গোস্বামী
প্রসঙ্গত, গতবছর আদিনা মসজিদে এসে বৃন্দাবনের এক সাধু হিরণ্ময় গোস্বামী দাবি করেন, আদিনা মসজিদ আসলে ‘আদিনাথ মন্দির’৷ সে সময় হিরণ্ময় গোস্বামীর ওই ভিডিয়ো ক্লিপ সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়৷ ভাইরাল হওয়া ওই ক্লিপে হিরণ্ময় গোস্বামীর সঙ্গে নবীনচন্দ্র পোদ্দার নামে এক পুলিশকর্মীকে তর্ক করতেও দেখা গিয়েছিল৷ ওই সৌধে গিয়ে শিবলিঙ্গের পুজোও করেন সাধু। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই আসরে নামে পুলিশ৷
তবে ভারতের পুরাতত্ত্ব বিভাগ বলছে এটা সংরক্ষিত সৌধ। দপ্তরের এক পুরাতাত্ত্বিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “আমাদের সৌধগুলির দুটি ভাগ আছে – একটা লিভিং আরেকটা নন-লিভিং। এটি একটি নন-লিভিং সৌধ এবং আইন অনুযায়ী এখানে কোনও ধরনের পূজা-অর্চনা, নামাজ পড়া যায় না। কোনও ধর্মীয় রীতি নীতিই এখানে পালন করা যায় না।
বিজেপি নেতা রথীন্দ্র বসুর মন্তব্য-
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেসময় স্থানীয় বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মন সহ বিজেপির কয়েকজন নেতৃত্ব ওই জায়গা পরিদর্শন করেন। এরপরই কিছু ছবি রথীন্দ্র বসু সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আদিনা মসজিদের তলায় কি ঘুমিয়ে রয়েছে সনাতনী ইতিহাস? মালদহ জেলার গাজোল থানার ৩৯ নম্বর মৌজায় অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বড় মসজিদ আদিনা মসজিদ। কিন্তু এটি সর্বৈব সত্য নয়। এই আদিনা মসজিদের তলাতেই ঘুমিয়ে রয়েছে আদিনাথ মন্দির। এই মন্দির উদ্ধারে প্রাণ দেন জিতু সর্দার। সেই ইতিহাস অনেকেরই অজানা। ইংরেজ ও মুসলিম শাসকদের হাত থেকে মন্দির রক্ষা করতে গিয়ে শহিদ হন তিনি।
আরও পড়ুন: ‘স্কুল নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রধান লাভবান’, বিস্ফোরক অমিত মালব্য
বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারির মন্তব্য-
আদিনাথ মন্দির নিয়ে এই বিতর্কের মাঝে ২০২৩ সালে বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি তার এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্ট করেছিলেন যা দেখে রীতিমত হুলস্থুল পড়ে গিয়েছিল রাজ্যে। তরুণজ্যোতি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, ‘মালদার গাজলে অবস্থিত আদিনা মসজিদ (Adina Masjid) আসলে আদিনাথ মন্দিরের (Adinath Mandir) উপর নির্মিত। সরকারের উচিত এই বিষয়ে দৃষ্টিপাত করা। এই ঐতিহাসিক ভুলকে ঠিক করা সরকারেরই দায়িত্ব।’ সেই সাথে নিজের পোস্টে দুটি ছবি জুড়ে দিয়ে তিনি লেখেন, ‘এমনকি পশ্চিমবঙ্গ সরকার তো স্বীকারও করেছিল যে, মসজিদটি হিন্দু মন্দিরের উপরেই নির্মাণ করা হয়েছে।’
রাজ্যের বহু ইতিহাসবিদই দাবি করেছেন যে, আদিনা মসজিদ আসলে আদিনাথ মন্দির ভেঙে নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের গায়ে ভগবান গণেশ সহ বহু দেবদেবীর মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়। সেই সূত্রেই সংসদে সরব হয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর আর্জি আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া যেন সমীক্ষা চালিয়ে হিন্দুদের এই আদিনাথ মন্দির (Malda Adinanth Temple) রক্ষা করে।