নিউজ ডেস্ক: ভোট কবে? “নাই জানি বাবু।” একেবারে স্পষ্ট উত্তর জগৎপতি মাহাতোর। ভোট নিয়ে দেওয়াল লিখন নেই কেন ? অবাক চোখে তাকিয়ে থাকেন জগৎপতি মাহাতোর বড় ছেলে শমীক মাহাতো। ভোট কবে জিজ্ঞেস করায় শমীকের উত্তর “না উটা বলে নাই। তবে উয়ারা আসেছিল?” কারা? “আসেছিলো ওই খাকি পঢ়া লোকগুলা।” আর কোনো রা নেই শমীকের।
পুরুলিয়ার বান্দোয়ান ব্লকের কুঁচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দলমা পাহাড় রেঞ্জ ছুঁয়ে থাকা আঁধারঝোর, আসনপানি ঠরকাদহে পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে কোন তাপ-উত্তাপ নেই। গ্রাম বাংলার ভোটে জঙ্গলমহলের এই গ্রামীণ জনপদগুলিতে একেবারে ভিন্ন ছবি। কিন্তু কেন ? এই প্রশ্নের কিছু উত্তর মেলে। কিছু-র কোন জবাব মেলে না। বনমহলের এই বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়ির সীমানা পার হলেই ঝাড়খন্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার ধারবুরু পাহাড়ের জঙ্গল।একসময় এই এলাকা ছিল মাও মুক্তাঞ্চল। এখন সেসব অতীত। গ্রামের ঢালাই রাস্তা দিয়ে বাংলার এই শেষ গাঁয়ের মানুষদের দৈনন্দিন কাজ কর্ম চলে গেলেই তারা খুশি। অভাব অনটন আছে। উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি আছে তবে তার প্রতিফলন কম। তাই এই তল্লাট কেমন যেন থমথমে। একেবারে চুপচাপ। অতীতের ছায়া যেন রয়েই গিয়েছে।
আরও পড়ুন: TMC Party Office Collapsed: রণক্ষেত্র আসানসোল, কেন ভাঙচুর হল তৃণমূল কার্যালয়?
এই এলাকায় প্রায় ১৩৫ টি পরিবার রয়েছে। সামান্য চাষাবাদ, দিনমজুরি আর জঙ্গলের বনজ সম্পদ বিক্রি করে দিন গুজরান হয় তাদের। ১০০ দিনের কাজ না হওয়ায় একের পর এক গ্রামের পুরুষরা বাইরে যান কাজ করতে। আসনপানি গ্রামের রাধারানী টুডু বলেন, “ভোট কবে জানি না। স্লিপ দিলে জানতে পারবো। ভোটটা দেবো। কিন্তু এই ভোট দিয়ে কি আমাদের কোন দিনবদল হবে? পরিবারের পুরুষদের তো সেই বাইরেই যেতে হবে।” তাই ভোট নিয়ে কোন উৎসাহ নেই বান্দোয়ানের এই জনপদগুলিতে। স্থানীয় সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য রথু সিং বলেন, “ওই গ্রামের মানুষজন দেওয়াল লিখতে দেন না। তবে বাড়ি-বাড়ি প্রচার হয়। ” কিন্তু তার যে কোন ছাপই নেই গ্রামে। অথচ আগের মত নেই কোন হুমকি। ভোট বয়কটের ডাক। তবুও বাংলার এই শেষ প্রান্তে পা রাখলেই যেন গা ছমছম করে। কিন্তু অভয়দানে এই এলাকায় এখনও এরিয়া ডমিনেশন করেনি কেন্দ্রীয় বাহিনী। বুথমুখি করতে কমিশনেরও প্রচার নেই। তাই গ্রামীণ ভোটেও এই গাঁ গঞ্জ গুলি যেন ‘অন্য গ্রাম’ হয়ে রয়েছে। এই ভোট পরবের মাঝে।