নিউজ ডেস্কঃ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, রুদ্ধশ্বাস একটি ম্যাচ। সবমিলিয়ে টানটান উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে মঙ্গলবার কুয়েতকে হারিয়ে নবমবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। আর দেশের এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন রক্ষণশীল মিডফিল্ডার জ্যাকসন সিং। কিন্তু জয়ের পরই ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
মঙ্গলবার ম্যাচ শেষে দেখা যায় জয় সেলিব্রেশনের সময় দেশের জাতীয় পতাকার বদলে মণিপুরের পতাকা কাঁধে নিয়েছেন জ্যাকসন। এমনকি, ওই পতাকা কাঁধে জড়িয়েই চ্যাম্পিয়নের পর পুরস্কার নেন তিনি। এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক শুরু হয় নেটদুনিয়া। মণিপুর দেশের একটি রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় পতাকার বদলে সেখানকার স্থানীয় পতাকা কেন কাঁধে তুললেন এই ফুটবল তারকা? প্রশ্ন ছড়িয়ে পরে প্রতিটি জায়গায়। এমনকি, অনেকে মনে করেন একমাত্র ভারতীয় হিসেবে বিশ্বকাপে গোল থাকা জ্যাকসনের উচিৎ হয়নি এই কাজ করা।
Jeakson Singh bring out the Meitei salai target flag to draw attention towards his home State #Manipur which has been burning since 2 months.
I see some Kukis trying to troll and harrass Jeakson for not bringing up Indian flag. How low they can go further?#IndianFootball pic.twitter.com/gHTnYSHD0y
— SG (@sgtweeets) July 4, 2023
তবে সকলের সমস্ত বিরোধীতার জবাব দিয়েছেন জ্যাকসন। নিজের ট্যুইটার এবং ইনস্টাগ্রাম পেজে একটি পোস্ট করেন তিনি। জানান, কারও ভাবাবেগে আঘাত দিতে চাননি তিনি। কেবলমাত্র ঐক্য ও শান্তির প্রতীক হিসেবে পতাকাটি কাঁধে তুলেছেন তিনি। মণিপুরে শান্তি ফিরুক, এটাই তাঁর প্রার্থনা।
Dear Fans,
By celebrating in the flag, I did not want to hurt the sentiments of anyone. I intended to bring notice to the issues that my home state, Manipur, is facing currently.
This win tonight is dedicated to all the Indians. pic.twitter.com/fuL8TE8dU4
— Jeakson Singh Thounaojam (@JeaksonT) July 4, 2023
প্রসঙ্গত, মণিপুরের মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষ হলেন জ্যাকসন। গত দু’মাস ধরে মেইতেই এবং কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে হিংসার ঘটনায় উত্তপ্ত রয়েছে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যটি। কিন্তু রাজ্যের এমন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির কথা জেনেও দলকে দেশের জার্সি গায়ে নিজের সেরাটা দিয়েছেন জ্যাকসন। আর তাই চ্যাম্পিয়ন হয়েই নিজের রাজ্যকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি। তবে শুধু জ্যাকসনই নন, এই মুহূর্তে রাজ্যের শান্তি কামনা করছেন সমস্ত মণিপুরী।