নিউজ ডেস্ক: আধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যার এ পর্যন্ত সর্বাধিক চর্চিত আবিষ্কার চ্যাট জিপিটি। কর্ম জগতে এসে ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোড়ন ফেলে দিয়েছে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবট। আশঙ্কা, এই প্রযুক্তি যত আপডেটেড হবে, ততই মানুষের কর্মক্ষমতার অধিকারী হতে থাকবে এটি, আর বিপদ আসবে কর্মক্ষেত্রে। এ পর্যন্ত অজস্র চর্চা, বিচিত্র তথ্য এসেছে চ্যাট জিপিটিকে কেন্দ্র করে। এবার প্রকাশিত হলো এ সংক্রান্ত আরও একটি অদ্ভুত তথ্য।
শুনলে অবাক হতে হয়, চ্যাট জিপিটির সিস্টেম থেকে করা প্রতি চ্যাটের জন্য খরচ করা হয়ে থাকে প্রায় ৫০০ মিলিলিটার জল! অবাক লাগলেও একদমই সত্যি। বাজারে ৫০০ মিলি অর্থাৎ হাফ লিটার জলের দাম ১০ টাকা। আর মাইক্রোসফটের চ্যাটবটের এক একটি চ্যাটের জন্য খরচ করতে হয় সেই হিসেবে ১০ টাকা। উল্লেখ্য, এই প্রযুক্তি যে পরিবেশের বিপুল ক্ষতি করছে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব বিশেষজ্ঞরা। এবার নতুন এই তথ্যে আবারও তৈরি হলো চ্যাটবটের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক-চর্চা।
আসলে Chat GPT-এর প্রশিক্ষণের পিছনে খরচ করতে হয় বিপুল পরিমাণে বৈদ্যুতিক শক্তি। আর এই প্রযুক্তির মূল ভিত্তি ডেটা। তাই চ্যাট জিপিটিকে সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য নির্মাণ করতে হয়েছে অজস্র বৃহৎ ডেটা সেন্টার। আর এই ডেটা সেন্টারের কম্পিউটিং সিস্টেমকে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য দরকার এই বিপুল শক্তির। আর এই শক্তি উৎপাদন করতে প্রয়োজন হয় জলের। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকায় চ্যাট জিপিটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য খরচ হয়ে থাকে ৭ লক্ষ লিটার জল। অন্যদিকে এশিয়ায় সেই খরচ বেড়ে হয়ে যায় ২০ লক্ষ লিটারে। চ্যাটবটের কুলিং প্রযুক্তিকে সক্রিয় রাখতেই খরচ হয় এই জলশক্তি। আর এই বিপুল জলশক্তির খরচ নিয়েই সরব পরিবেশবিদেরা। তাঁদের বক্তব্য, যেখানে বিশ্বজুড়ে এক গ্লাস জলের অভাবে মৃত্যু হচ্ছে মানুষের, ক্রমশ বাড়ছে এক বোতল জলের দাম, সেখানে চ্যাট জিপিটিকে সক্রিয় রাখতে পরিবেশ এবং সমাজের প্রভূত ক্ষতি করছে এই টেকনোলজি।