নিউজ ডেস্ক: ঐতিহ্য! এই একটি শব্দই তোলপাড় করে দিয়েছিল সারা দেশ! ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট। তৎকালীন কলকাতায় লালা লাজপৎ রাই, বিপিন চন্দ্র পাল ও বাল গঙ্গাধর তিলকের নেতৃত্বে শুরু হয় স্বদেশি আন্দোলন। হাতে বোনা কাপড়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্ব দেওয়া হতে থাকে খাদি, সুতি, মসলিন ও মলমল জাতীয় হাতে বোনা কাপড়কে। তাঁতিদের হাতের কাজকে অক্ষুন্ন রাখতে ও দেশীয় শিল্পের প্রতি ভালোবাসাকে উসকে দিয়ে আন্দোলনের রূপ দেয় বিপ্লবীরা। ঐতিহ্যের টানে, দেশের জন্য শুরু হয়- দেশে তৈরি, স্থানীয় শিল্পীদের হাতে তৈরি জিনিসপত্রের ব্যবহার। যা ধিরে ধিরে ঐক্যবদ্ধ করে আপামর ভারতবাসীকে। বহু বছরের আন্দোলনের পর আসে স্বাধীনতা।
এরপর কেটে গিয়েছে সত্তর বছরের বেশি সময়। বাজারে জায়গা করে নিতে থাকে মেশিনে তৈরি সুতো। প্লাস্টিক, সিন্থেটিক ও মিক্সড সুতোয় তৈরি জামাকাপড় জায়গা করে নিতে থাকে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে। হালফিলে কানে আসে নতুন শব্দ, নতুন ধারার ফ্যাশন যাকে ফাস্ট ফ্যাশনও বলে কাপড় ব্যবসার জগতে। অর্থ্যাৎ, একটি স্টাইল বা কাপড়ের প্রচলন হয় আবার কিছুদিন যেতে না যেতেই অন্য স্টাইল জায়গা করে নেয়। এতে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হয় তেমনই ক্ষতি হয় শিল্পীদের। ন্যায্য মূল্য পাননা ডিজাইনাররা।
পশ্চিমি দুনিয়ায় ফাস্ট ফ্যাশন জনপ্রিয় হতেই তার ঢেউ এসে লাগে ভারতে। তাই ভারতীয় শিল্পকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৫ সালে প্রথম শুরু করেন ন্যাশনাল হ্যান্ডলুম ডে। ভোকাল ফর লোকাল! এই ছিল তাঁর স্লোগান। আর দিন হিসেবে বেছে নিলেন ইতিহাসের এক আত্মনির্ভরতার অধ্যায়কে। সেই ৭ আগস্ট, যেদিন প্রথম ধ্বজা উড়েছিল স্বদেশি আন্দোলনের। প্রাধান্য পেয়েছিল চরকা কাটা সুতো।
ভারতে মোট ১৩৬ রকমের হ্যান্ডলুমের পদ্ধতি পাওয়া যায়। ভৌগলিক স্থান ভেদে ভারতে বিভিন্ন রকমের সুতো পাওয়া যায়। আর সেই সুতো দিয়েই হয় নানান রকম কারুকার্যের নকশা। ফুটে ওঠে এক এক প্রদেশের সংস্কৃতি। দক্ষিণ ভারতের কাঞ্জিভরম, উত্তর ভারতের বেনারসি-জারদৌসি, বাংলার তাঁত আবার অবিভক্ত বাংলার মসলিন-মলমল। হ্যান্ডলুমের খ্যাতি জগৎজোড়া। শুধু মাত্র কাপড়ই নয় তার সঙ্গে রয়েছে ততোধিক সুন্দর নকশা। তাই ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে উদ্যোগী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ একাধিক ফ্যাশন ডিজাইনারাও। সম্প্রতি প্যারিসে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড শ্যানেলের সিইও-এর সঙ্গে দেখা করেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত লীনা নায়ারকে অনুরোধ করেন ভারতীয় এই পোশাক শিল্পকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে।