নিউজ ডেস্ক: রবিবার কলকাতায় ফেরেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার
লিপ্স অ্যান্ড বাউন্সের অফিসে হানা দেয় ইডি। এই হানা ঘিরে ফের বেড়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ।
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় ওই সংস্থার বোতলবন্দী জলের কারখানা ছিল। এই জেলার ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই এই সংস্থার প্রথম দিকে কর্ণধার ছিলেন।
ফলে এসবের মধ্যে কি যোগসূত্র রয়েছে। দুর্নীতির টাকা কোন সংস্থা থেকে কোন সংস্থায়
ঘুরপথে পাঠানো হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। স্বাভাবিকভাবেই অভিষেক
কি এবার আরও বিপাকে পড়তে চলছেন? উঠছে প্রশ্ন।
প্রসঙ্গত ২০১২ সালে তৈরি হয়েছিল লিপ্স অ্যান্ড বাউন্স। ২০১৪
সালে ওই সংস্থার দায়িত্ব ছেড়ে দেন অভিষেক। বর্তমানে এই সংস্থার দায়িত্বে রয়েছেন রুজিরা
বন্দ্যোপাধ্যায় (অভিষেকের স্ত্রী), অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় (অভিষেকের বাবা) ও লতা বন্দ্যোপাধ্যায়
(অভিষেকের মা)। দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও ঘুরপথে ওই সংস্থা তৃণমূল সাংসদের নিয়ন্ত্রণাধীন
রয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। তমলুকের নিমতৌড়িতে একটি
জনসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “কালিঘাটের কাকুর বলে ওই সংস্থাকে
দেখানো হচ্ছে। লিপ্স অ্যান্ড বাউন্স অভিষেকের সংস্থা। সাংসদ হওয়ার জন্য তিনি পদত্যাগ
করলেও তার পরিবারের সকলে এখনও সংস্থা চালান। বন্দ্যোপাধায়্যায় পরিবারের কোম্পানী লিপ্স
অ্যান্ড বাউন্স”।
এদিকে হাইকোর্টের পর এবার সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিবিআই এবং
ইডির তদন্তের বিরুদ্ধে তৃণমূল সাংসদ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ প্রদানের আর্জি খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন
বেঞ্চ তার পর্যবেক্ষণে বলে, “শিক্ষক নিয়োগ ও পুরসভা নিয়োগ কেলেঙ্কারির সম্পর্ক থাকার
সম্ভাবনা আছে”।
রক্ষাকবচ সরে যাওয়ায় এবার কি তাহলে বিপদ বাড়ল ডায়মন্ড হারবারের
সাংসদের? ইডি সুত্রে জানা গেছে ফের তৃণমূল সাংসদকে ডেকে পাঠানো হতে পারে। ওয়াকিবহাল
মহলের মত নতুন করে তদন্তের গতি বাড়ায় অভিষেকের সমস্যা কমার অন্তত ইঙ্গিত নেই। যদিও
নিজেকে বারংবার নির্দোষ দাবী করেছেন তিনি।