নিউজ ডেস্ক: পুজোর মোটে দেড় মাস বাকি। এর মধ্যেই পুজো প্রস্তুতি তুঙ্গে প্যান্ডেলগুলির। কেনাকাটাও শুরু করে দিয়েছে ক্রেতারা। তার উপর মুক্তি পেয়েছে শাহরুখ খান অভিনীত ছবি ‘জওয়ান’। তা নিয়েও উন্মাদনা তুঙ্গে। পুজোর আগেই উৎসবের মরসুম নিয়ে এসেছে ছবিটি। তবে এই বছর পুজোয় সিনেপ্রেমীদের সুখবর দিল দক্ষিণ কলকাতার একটি প্রেক্ষাগৃহ। পুজোর সময় ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকবে হল। এমনই অভিনব ভাবনা প্রকাশ করল নবীনা সিনেমা হল।
পুজোয় মোট চারটি বাংলা ছবি টেক্কা দিতে নামছে একে অপরের সঙ্গে। প্রথমেই রয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘দশম অবতার’। দেবের প্রযোজনায় ও অভিনয়ে ‘বাঘা যতীন’। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায়ের রক্তবীজ এবং অরিন্দম শীল নিয়ে আসছেন ‘জঙ্গলে মিতিন মাসি’। চারটি ছবিই পুজোর সময় ভালোই ব্যবসা করবে বলেই মনে করছেন পরিচালকেরা। তার অন্য়তম কারণ হল পুজোর সময় অনেকেই ছবি দেখতে পছন্দ করেন। ফলে হল মালিকের মতে মাঝরাতে ঠাকুর দেখার পরে একটু জিরিয়ে নিতেই হলে আসবেন অনেকেই। নবীনা সিনেমার কর্ণধার নবীন চৌখানি জানান, নবীনা সিনেমাহলে আটশো আসন। জওয়ান-এর প্রথম শো হাউসফুল হওয়ায় মনে জোর পাচ্ছেন তিনি। নবীন জানান শেষ ২০১৮ সালে রাত সাড়ে ১১ টার সময় তাঁরা ‘ব্যোমকেশ গোত্র’ ছবিটি দেখিয়েছিলেন। এবার ‘জওয়ান’-এর সাফল্যের জেরেই অন্য ছবি নিয়েও আশাবাদী তিনি। বলেন যে পুজোতে সারা রাত হল খোলা রাখার জন্য অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের কথা ভাবছেন কতৃপক্ষ।
তবে সারারাত হল খোলা রাখার দৃষ্টান্ত এই প্রথম নয়। ৮০-৯০-এর দশকে শিবরাত্রির সময় সারারাত হল খোলা থাকত। এমনকি মাঠে প্যান্ডেল বেঁধে ছবি দেখানো হত। যদিও বেশ কয়েক বছর আগে পুজোর সময় রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের শো টাইমে অভিনেতা জিতের ছবি দেখানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক কালে সারারাত হল খোলা রাখার নিদর্শন নেই বললেই চলে। শহরের হল মালিকদের একাংশের মতে, অতিমারির পর শাহরুখের ‘পাঠান’ ছবিটি সিঙ্গল স্ক্রিনকে নতুন জীবন দান করেছিল। এছাড়াও সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কহানি’, ‘গদর ২’ বা ‘ওএমজি ২’-এর মতো ছবি হল মালিকদের মনোবল বাড়িয়েছে। তাই পুজোয় সারাদিন সিনেমাহল খোলা থাকলে তা সিঙ্গল স্ক্রিনের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।