নিউজ ডেস্ক: সাদা কালো সেলুলয়েডে অন্যতম অভিনেতা ছিলেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। পর্দায় তাঁর ছবি ফুটে উঠলেই হাসির রোল গড়িয়ে পড়তো দর্শকদের আসনে। কৌতুক অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি গড়েছিলেন তিনি। তবে পর্দার জীবন যতটা জনপ্রিয় এবং নিখুঁত দেখায় ততটা মোটেই ছিল না তাঁর বাস্তবিক জীবনের চিত্রটা। জীবনের ওঠা পড়ার মাঝে যখন ভেঙে পড়তে বসেছিলেন তিনি সেই সময় তাঁর পাশে শক্ত খুটি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী নীলিমা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সাদাকালো পর্দা ছেড়ে রঙিন পর্দায় আসতে চলেছেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বায়োপিকের পোস্টার মুক্তি পেয়েছিল আগেই। তাঁর চরিত্রে অভিনয় করছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়।
ভানুর চরিত্রে কে অভিনয় করছেন তা জানা গেলেও তাঁর স্ত্রীর চরিত্রে কাকে দেখা যাবে তা জানা যায়নি এতদিন। শনিবার প্রকাশ্যে এলো সেই অভিনেত্রীর নাম। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনী চিত্র ‘যমালয়ে জীবন্ত ভানু’ ছবিতে তার স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করতে চলেছেন অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী নীলিমা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল তাঁর স্ত্রী ছিলেন না সেই সময় একজন প্রথিতযশা সংগীত শিল্পীও ছিলেন তিনি। ২৬ আগস্ট অভিনেতার ১০৩ তম জন্মবার্ষিকীতে প্রকাশ্যে আসে ‘যমালয়ে জীবন্ত ভানু’র পোস্টার। পরিচালনা করছেন কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়।
শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত নিজেই এই ছবিতে তাঁর লুক শেয়ার করেন। তাঁকে যে একেবারেই নীলিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত লাগছে তা স্বীকার করেন ভানু ও নীলিমার ছেলে গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ছবি পোস্ট করার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। নীলিমা চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে নিজেকে তৈরি করছেন দেবলীনা। তার প্রথম ধাপ হিসেবে তিনি জানান বাঙাল ভাষাটি রপ্ত করছেন তিনি। এর আগেও বাঙাল ভাষায় কথা বলতে হয়েছে, এমন ছবি করেছিলেন দেবলীনা। ফলে ভাষাটি ভালোই জানেন তিনি। তবুও নীলিমা দেবী যেমন টানে উচ্চারণ করতেন তা শেখার জন্য ভানু ও নীলিমা দেবীর মেয়ে বাসবী বন্দোপাধ্যায়ের কাছে সেই ভাষার উচ্চারণ শিখছেন তিনি।
এছাড়াও তাঁদের ছেলে মেয়ের কাছে বসে মা-বাবার রসায়ন বোঝার চেষ্টা করছেন দেবলীনা। ভানু ও নীলিমা দেবী স্বামী-স্ত্রীর থেকে একে অপরের বন্ধু ছিলেন বেশি। ফলে দুঃসময় পাশে ছিলেন একে অপরের। পর্দায় নীলিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরিত্রটাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য তাঁর জীবনের সমস্ত অধ্যায়কে পর্যবেক্ষণ করছেন দেবলীনা। তবে এই চরিত্রটিকে নিয়ে কিছুটা দ্বিধাতেও ছিলেন অভিনেত্রী। তবে শেষ পর্যন্ত পর্দায় ‘মা’কে ফুটিয়ে তুলতে পারছেন দেখে প্রশংসা করেন অভিনেতার ছেলেমেয়েরা। তারপরেই কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন দেবলীনা।