নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত দেশের কিংবদন্তি স্পিনার বিষেণ সিং বেদী। ৭৭ বছরে মৃত্যু হল তাঁর। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে স্পিন বোলিংয়ে বিপ্লব এসেছিল তাঁর হাত ধরেই। দেশের সেরা বাঁ হাতি স্পিনার বলা হয় তাঁকে। বছর দুয়েক আগে গুরুতর অসুস্থ হয়েছিলেন বেদী। সেবার সুস্থ হয়ে ফিরেছিলেন। কিন্তু এ দিন কিংবদন্তি স্পিনারকে হারাল ভারতীয় ক্রিকেট।
দু-বছর আগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল তাঁর। দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল। অস্ত্রোপচারও করানো হয়। কিংবদন্তি স্পিনারকে এ বার হারাল দেশ। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। ১৯৪৬ সালে অমৃতসরে জন্ম বিষেণ সিং বেদীর। ভারতীয় ক্রিকেটের সোনালী সময়ের চার স্পিনার এরাপল্লী প্রসন্ন, ভগবৎ চন্দ্রশেখর, শ্রীনিবাস ভেঙ্কটরাঘবন এবং বিষেণ সিং বেদী। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৮, এক য়ুগের বেশি সময় দাপট দেখিয়েছেন বাঁ হাতি স্পিনার বিষেণ সিং বেদী। তর্কাতীত ভাবে দেশের সেরা বাঁ হাতি স্পিনার। দেশের হয়ে ৬৭ টেস্টে ২৬৬ উইকেট নিয়েছিলেন বেদী। ১০টি ওডিআইতে নিয়েছেন ৭ উইকেট।
১৯৬৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ভারতের হয়ে ৬৭টি টেস্ট ও ১০টি এক দিনের ম্যাচ খেলেছেন বেদী। টেস্টে নিয়েছেন ২৬৬টি উইকেট। এক দিনের ক্রিকেটে তাঁর উইকেটের সংখ্যা ৭টি। মনসুর আলি খান পতৌদির পর ১৯৭৬ সালে ভারতের অধিনায়ক হয়েছিলেন বেদী। তাঁর অবসরের পরে ভারতের অধিনায়ক হন সুনীল গাভাসকর।
ভারতের স্পিন আক্রমণের উত্থানে বড় ভূমিকা ছিল বেদীর। এরাপল্লি প্রসন্ন ও বি চন্দ্রশেখরের সঙ্গে মিলে এক শক্তিশালী স্পিন বিভাগ তৈরি করেছিলেন বেদী। সত্তর ও আশির দশকে এই ত্রয়ী ভারতীয় দলের সব থেকে বড় অস্ত্র ছিল। ভারতের প্রথম এক দিনের ম্যাচ জয়ে নায়ক হয়েছিলেন বেদী। ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপে পূর্ব আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১২ ওভারে আটটি মেডেন-সহ মাত্র ৬ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর দাপটেই পূর্ব আফ্রিকাকে ১২০ রানে আটকাতে পেরেছিল ভারত।