নিউজ ডেস্ক: দেবীপক্ষের শেষদিনে অর্থাৎ আশ্বিন মাসের কোজাগরী পূর্ণিমার দিনে মা লক্ষ্মীর আরাধনা হয় বাড়িতে। মাটির লক্ষ্মীপ্রতিমা, পট কিংবা সরার উপর পাতা হয় দেবী লক্ষ্মীর আসন। সারা বছর প্রত্যেক বৃহস্পতিবারে সেই লক্ষ্মীকে পুজো করা হয় ভক্তি সহকারে। পুজো মানেই সেখানে থাকবে ভোগ, নৈবেদ্য ও প্রসাদ। তবে মা লক্ষ্মীকে ভোগ নিবেদনের তেমন একটা বাধ্যবাধকতা নেই। ভক্তিভরে যা নিবেদন করবেন তাই গ্রহণ করে মা লক্ষ্মী। কারণ অল্পেই সন্তুষ্ট তিনি!
তবে কোন কোন পদ দিয়ে মা লক্ষ্মীর ভোগ সাজাবে জানেন? কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় খিচুড়ি ভোগই বেশি প্রচলিত। সঙ্গে থাকে পাঁচ রকম ভাজা, লাবড়া, খই মুড়কি, নাড়ু ইত্যাদি নানা উপাচার। তবে আঞ্চলিক ও জায়গাভেদে মা লক্ষ্মীর নৈবেদ্যতে বৈচিত্র্য দেখা যায়। অনেক বাড়িতেই লক্ষ্মীপুজোর দিন নিরামিষ ভোগের চল রয়েছে। আমিষের পাশাপাশি অন্ন ভোগ দেন না অনেকেই। তাই এদিন ভোগের থালা সেজে ওঠে লুচি, সুজি, হরেক রকম মিষ্টি, আলুরদম, পায়েস, খই, মুড়কি, নারকেল ও তিলের নাড়ু এবং নানা রকম ফল দিয়ে। মূলত পশ্চিমবঙ্গের রীতি অনুযায়ী নিরামিষ ভোগ নিবেদন করা হয়ে থাকে।
আবার পূর্ববঙ্গীয় রীতিতে মা লক্ষ্মীকে অন্নভোগ ও আমিষ দিয়ে থাকেন অনেকে। ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল অঞ্চলে লক্ষ্মী পুজোয় জোড়া ইলিশের নিবেদন প্রচলিত। পূর্ববঙ্গ থেকেই জোড়া ইলিশ দেওয়ার রীতি চলে এসেছে এই বাংলাতেও। তাই পূর্ববঙ্গীয় রীতি অনুযায়ী, বিশেষ করে যেকোনো বাঙাল পরিবারে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর দিন খিচুড়ি ও ইলিশ নিবেদন করা হয়। সেই সঙ্গে থাকে লাবড়া, পাঁচ রকম সবজি ভাজা, শাক, চাটনি, ডাবের জল ও পায়েস। আর ইলিশ নিবেদন করলে ইলিশের পাঁচরকম পদ রান্না করা হয়।