নিউজ ডেস্ক: দিনহাটা
থেকে মাথাভাঙ্গা পর্যন্ত দুই দিন ব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে
গজরাজ ট্রাকের মাধ্যমে রওনা দিলেন জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের দিকে। ইতিমধ্যেই তাঁকে
বাগে আনতে গিয়ে আহত হয়েছেন দুজন বন কর্মী। নিহতদের বাড়ি পরিদর্শন
এবং পরিবার-পরিজনদের সমবেদনা জানাতে শনিবার সকালে মাথাভাঙায়
উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদায়ন গুহ।
চারদিন ধরে তাণ্ডব
চালিয়ে অবশেষে বনকর্মীদের ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাহিল গজরাজ।
মাথাভাঙ্গা ২-এর উনিশবিশা গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শনিবার হাতিটিকে ট্রাকে করে
জলদাপাড়ার জঙ্গলে ফেরাতে সক্ষম হলেন বনকর্মীরা। এদিন দুটি কুনকি হাতি এনে ক্রেনের
সাহায্যে হাতিটিকে ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
শুক্রবার রাতে
ঘুমপাড়ানি গুলি করে দড়ি দিয়ে বাঁধার সময় দাঁতালটি দড়ি ছিড়ে রুইডাঙ্গা থেকে
পার্শ্ববর্তী উনিশবিশার পাটাকামারিতে ধানখেতে ঢুকে যায়। এরপর বনকর্মীদের তৎপরতায়
ফের হাতিটিকে ধরা হয়। রাতভর বনকর্মী ও পুলিশের নজরদারিতে রাখার পর এদিন সকাল থেকে
হাতিটিকে ফের জঙ্গলে ফেরানোর তৎপরতা শুরু হয়। এদিন কোচবিহার, মাথাভাঙ্গা, জলদাপাড়া সহ বিভিন্ন রেঞ্জের কর্মীদের
তৎপরতায় হাতিটিকে জঙ্গলে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বন দপ্তর সূত্রে
জানানো হয়েছে, “শুক্রবার বিকেলেই উনিশবিশার সুতারপাড়া হয়ে
তোর্সা নদীর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় জাতীয়
সড়ক পার করে চারটি হাতিকে পাতলাখাওয়া জঙ্গলের অভিমুখে ফেরাতে সক্ষম হয়েছেন তারা।
অপর একটি দাঁতাল পারডুবি থেকে মানসাই নদী অতিক্রম করে মাথাভাঙ্গার দিকে চলে গেলেও
কিছুক্ষণ পর ফের রুইডাঙ্গা এলাকায় চলে আসে। রুইডাঙ্গা থেকে কোচবিহার চা বাগান হয়ে
পার্শ্ববর্তী ফালাকাটার পাশ দিয়ে ওই হাতিকে জঙ্গলে ফেরাতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি বন
দপ্তরের। বাকি ছিল একটি গজরাজ, সকালে ঘুম পাড়ানি গুলিতে
ঘায়েল করে জলদাপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা করানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে
দিনহাটার মাতালহাট এলাকায় ছয়টি হাতির একটি দল দেখা যায়। যাদের মধ্যে চারটি হাতি
এক জায়গায় থাকলেও পরবর্তীতে দুইটি হাতি দলছুট হয়ে পড়ে। মূলত তারাই তাণ্ডব
চালায় মাথাভাঙ্গা এলাকায়। ঘটনায় চারজনের মৃত্যু সহ একজন বনকর্মী আহত হয়। আজ
সকালে বড়কর্মীদের তৎপরতায় কার্যত এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ অনেকটাই কেটেছে বলে
দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।