নিউজ ডেস্ক: সৈকত শহর দীঘায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের এবার গাইড পরিষেবা দেবে দীঘা শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদ। পদিমা ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সাথে যৌথ ভাবে দীঘা শংকরপুর
উন্নয়ন পর্ষদ এই পরিষেবা দেবে বলে জানা গেছে। পূর্ব
মেদিনীপুর জেলার সৈকত শহর দিঘায় বেশ কয়েকবার
বেড়াতে এলেও অনেক পর্যটক জানেন না এখানে সমুদ্র
স্নানের আনন্দ নেওয়ার পাশাপাশি কোথায় কোথায় সময়ের মধ্যে ঘুরে
দেখা যায়। এবার সেই কথা মাথায় রেখে টুরিস্ট গাইড পরিষেবা
চালু হতে চলেছে দীঘায়।
রামনগর এক পঞ্চায়েত সমিতির নারী শিশু
কর্মাধ্যক্ষ কেয়া দলই এবং পদিমা ১ পঞ্চায়েত প্রধান অশোক চন্দ্র জানিয়েছেন, “কালীপুজোর উৎসবের সময় থেকেই পর্যটকদের জন্যে টুরিস্ট
গাইড পরিষেবা প্রদান করা হবে। সৈকত শহর দীঘা সহ মান্দারমনি,তাজপুর,শংকরপুর আরো ভালো করে ঘুরে দেখতে সাহায্য করবে গাইডরা”। এর আগে শুক্রবার দিঘা-শংকরপুরে বেড়াতে আসা
পর্যটকদের বিনোদন ও মনোরঞ্জনের জন্য থ্রি-ডি থিয়েটার, লেজার
লাইট শো, ওয়াটার ফাউন্টেন সিস্টেম গড়ে তোলা হয় নায়কালী মন্দিরের পাশে। পূর্ব মুকুন্দপুর গ্রামে প্রায় তিনশো বছরের প্রাচীন নায়েকালী মন্দির। এই মন্দিরের পুজোকে
ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে বিশেষ আবেগ লক্ষ্য করা যায়। প্রসঙ্গত নায়েকালী মন্দিরের
বিশেষত হল এখানে নৌকার উপর মা কালীর অধিষ্ঠান। এছাড়াও নায়েকালী মন্দিরে সিংহের উপর
মা দুর্গার মূর্তিও রয়েছে।
এখানে ছোট নৌকার উপর মা কালীর ছোট পাথরের
মূর্তিকে ঘিরে অনেক জনশ্রুতি আছে। এখানে
দুর্গা এবং কালী একসঙ্গে পূজিতা হন। পর্যটকদের বিনোদন ও মনোরঞ্জনের জন্য থ্রি-ডি
থিয়েটার,
লেজার লাইট শো, ওয়াটার ফাউন্টেন সিস্টেম গড়ে
তোলার কাজ শুরু করেছে উন্নয়ন সংস্থা। মন্দির সংলগ্ন ঝিলে থাকবে বোটিংয়ের ব্যবস্থা।
এই পরিকাঠামো গড়ে তুলতে প্রায় ১৫কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকটাই কাজ
এগিয়ে গিয়েছে। মুম্বাইয়ের ধাঁচে সৈকত শহর
দিঘা-শৌলা মেরিনড্রাইভ গড়ে তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মেরিন
ড্রাইভের সংলগ্ন রাস্তার পাশেই রয়েছে নায়েকালী মন্দির। দীর্ঘকাল ধরে এখানে ছোট
পাকার মন্দির ছিল। কয়েকবছর আগে গ্রামবাসীদের আর্থিক সহায়তায় সুদৃশ্য এবং সুউচ্চ
সাদা রঙের মন্দির তৈরি হয়। খাল, জলাভূমি এবং গাছগাছালি
মিলিয়ে মন্দির সংলগ্ন এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশও মনোরম। আগে এই এলাকাটি কার্যত ঝোপজঙ্গলে ঘেরা ছিল।
সংশ্লিষ্ট পদিমা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত ১০০দিনের কাজ প্রকল্পের মাধ্যমে জায়গাটি
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে। তারপর ৩০লক্ষের বেশি টাকা ব্যয়ে এখানে একটি
সাজানো-গোছানো পার্ক গড়ে তুলেছে। আগত পর্যটক সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষজন পার্কে
ঘুরে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে যান।