নিউজ ডেস্ক: বাঁকুড়ায় বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে সিবিআই তদন্তের দাবি উঠল। বুধবার সকালে বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি থানার নিধিরামপুর গ্রামে বাড়ির কাছে দীপু মিশ্র নামের এক বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুভদীপ মিশ্র ওরফে দীপুকে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের লোকজনের অভিযোগ। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান এলাকার বাসিন্দারা।
এ নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “খুন করা হয়েছে।দুটো হাত বাঁধা। হাত বেঁধে ঝোলা সম্ভব নয়। ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।এটা রাজনৈতিক খুন। আমরা সিবিআই তদন্তের দাবি করছি।” বাঁকুড়ার পুলিশ সুপারকেও একহাত নেন শুভেন্দু। বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেন, “বিজেপি কর্মীদের খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ত্রিলোচন মাহাতো থেকে একই ধারা চলছে। তবে যারা মনে করছেন এভাবে পার পেয়ে যাবেন তা পাবেন না। আমরা সিবিআই তদন্ত চাইব।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুভদীপ মিশ্র ওরফে দীপু এলাকায় বিজেপি কর্মী হিসাবে পরিচিত ছিলেন। গত গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে দলের হয়ে প্রার্থীও ছিলেন দীপু । স্থানীয় সূত্রে খবর দিন সাতেক আগে হঠাৎই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে শুরু করেন শুভদীপ। মঙ্গলবার তিনি বাড়িতে ফিরেছিলেন। বুধবার সকালে বাড়ির কাছাকাছি গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে একটি গাছে গলায় দড়ির ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলন্ত দেখতে পান স্থানীয়রা। ঝুলন্ত মৃতদেহের দুটি হাত দেহের সাথে গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় থাকায় সন্দেহ তীব্র হয় এলাকার মানুষের।
এলাকাবাসী ও মৃতের পরিবারের দাবি প্রতিবেশী এক বিবাহিতা মহিলার সঙ্গে দীপুর ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। মহিলার পরিবারের তরফে দীপুকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের দাবি মহিলার পরিবার দীপুকে খুন করতে পারে। ঘটনার খবর পেতেই এলাকায় ছুটে যান শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরি। তাঁর দাবি এর পিছনে রাজনৈতিক কারনও থেকে থাকতে পারে। তৃণমূল রাজনৈতিক কারণের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তৃনমূলের দাবি এই ঘটনা নিছকই আত্মহত্যা। গোটা ঘটনার প্রকৃত তদন্তের দাবিতে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। মৃতদেহ উদ্ধারেও বাধা দেওয়া হয়। পুলিশ পরকিয়ায় অভিযুক্ত মহিলাকে আটক করলে পুলিশের গাড়িতেও হামলা চালায় স্থানীয়রা।