নিউজ ডেস্ক: উত্তরের পর্যটনের মুকুটে
জুড়ল নতুন পালক। সৌজন্যে ভারতীয় রেল। রেলের
কামরায় তৈরি হল রেস্তোরাঁ। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের
জঙ্গলের ভেতর রাজাভাতখাওয়া রেল স্টেশনে চালু হল এই রেস্তোরাঁ। উত্তরপূর্ব সীমান্ত
রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে এটা দ্বিতীয় কোচ রেস্তোরাঁ।
প্রথমে চালু হয়েছিল অসমের কোকরাঝারে। বাংলায় এই ধরনের রেস্তোরাঁ প্রথম।
সাধারনত পুরোনো রেলের কোচকে
এই কাজে ব্যবহার করেছে রেল। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে আটটি
স্টেশনে এই রেস্তোরাঁ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় রেল। নির্দিষ্ট এই সব স্টেশনে
কামরা নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দেওয়ার দায়িত্ব ভারতীয় রেলের।
তার পর সেগুলোকে সাজিয়ে গুছিয়ে রেস্তোরাঁ তৈরি করছে বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তি।
এখানে মিলবে চিকেন চাউমিন, মোমো থেকে
হরেক রকম খাবার ও পানীয়। জানা গিয়েছে
রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের রাজাভাতখাওয়া, লাটাগুড়ি, নিউ আলিপুরদুয়ার , কোকরাঝার , নিউম্যাল জংশন, মাদারিহাট, চালসা ও
নিউ কোচবিহার এই আট স্টেশনে এই কোচ রেস্তোরাঁ চালু করা হচ্ছে। এর মধ্যে কোকরাঝারে
আগেই চালু হয়েছিল। বৃহস্পতিবার চালু হল রাজাভাতখাওয়ায় ।
এদিন নাচ গান নানান অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে এই কোচ
রেস্তোরাঁর উদ্বোধন করেন রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের
ডি আর এম অমরজিত গৌতম। অন্যান্য রেল আধিকারিকদের সাথে
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারাও কোচ রেস্তোরার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জানা গিয়েছে রেল চাইছে এই সব কোচ রেস্তোরাঁকে
স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে সাজিয়ে তুলুক বরাত পাওয়া সংস্থা। যেমন জঙ্গলের
ভেতর রেল স্টেশনে এই রেস্তোরা জঙ্গলের রূপে সেজে উঠুক
যা ওই এলাকার একটি ল্যান্ডমার্ক বা নিদর্শনে পরিণত হবে।
সেই অনুযায়ী পুরনো কোচের
গায়ে নদী পাহাড়, জঙ্গল আর পাকা ধানের খেতের ছবি একে আকর্ষনীয়
করা হয়েছে এই রেস্তোরাঁয়। একসাথে ৪০ থেকে ৪৫ জনের বসার জায়গা থাকছে এই রেস্তোরায়।
সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত এই রেস্তোরা খোলা থাকবে। এখানে খাবারের দাম সবই
মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যেই থাকছে বলে জানিয়েছেন ডি আর এম।
রেলের এই অনুষ্ঠানে ডাক পেলেন না আলিপুরদুয়ারের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বার্লা। রেলের কোচ রেস্তোরাঁর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডাক পান নি আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লা। ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নালিশ জানাচ্ছেন রেল মন্ত্রীর কাছে। ডি আর এমকে ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এই উদ্বোধনের কথা জানতেনই না জন বার্লা। আলপুরদুয়ারে এসে দলীয় কর্মীদের কাছে রেলের এই প্রকল্পের উদ্বোধনের কথা জানতে পারেন জন বার্লা বলে জানিয়েছেন।