নিউজ ডেস্ক : মারা
যাব। আর বাঁচব না। বলছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী। কয়েকদিন আগে পর্যন্ত নানান হুঙ্কার ছাড়ছিলেন। এখন তিনি হাঁটছেন অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে। দীপাবলীর আনন্দে দেশ যখন মাতোয়ারা রাজ্যের অভিযুক্ত এক মন্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার
কয়েক দিনের মধ্যেই অসুস্থ! পক্ষঘাতগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার পর এবার মৃত্যুভয়ের
কথা জানালেন রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে ইডি হেফাজতে থাকা রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয়
মল্লিক। তার অসুস্থতাকে
নাটক আখ্যা দিচ্ছে বিরোধীরা। বিরোধীদের দাবি, জামিন পেতে এসব করছেন জ্যোতিপ্রিয়।
অভিযোগ জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের স্ত্রী ও মেয়েকে বাকিবুর রহমান বিনা সুদে ৯
কোটি টাকা ঋণ দিয়েছেন। অভিযোগ নিয়মবহির্ভূত ভাবে একচ্ছত্র
ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার উপহার হিসেবে বাকিবুর মন্ত্রীর পরিবারকে সেই টাকা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে মন্ত্রীর বাড়ির পরিচারক
রাম স্বরূপ শর্মা দাবি করেছেন তাঁকে সাদা কাগজে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছিল। প্রসঙ্গত মন্ত্রী বাড়ির কর্মচারীকে
খাতায় কলমে কয়েকটি কোম্পানির উঁচু পদে দেখানো হয়।
প্রসঙ্গত
মমতা সব জানেন। আগেই বলেছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তার পর থেকে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন তাহলে কি ঘুরিয়ে ‘বালু’ বুঝিয়ে
দিতে চেয়েছেন তার গ্রেফতারের পিছনের অদৃশ্য হাতটা রাজ্য প্রশাসনের উঁচু তলা থেকেই এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খোদ কিছু দিন আগে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পাশে দাঁড়ালেও ভবানীপুরে
বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে নাম না করে ব্যক্তিগত সমস্যা আখ্যা দিয়ে অবস্থান বদল করেন।
অন্যদিকে
ইডি প্রেস বিবৃতি জারি করে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ইডি জানিয়েছে কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশের কাছে একাধিক নালিশ জমা পড়ে খাদ্য বণ্টন
ব্যবস্থার অনিয়ম নিয়ে। এগুলি আগেই তদন্ত শুরু করেছিল রাজ্যের পুলিশ। ফলে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের জন্য প্রাথমিক গর্ত রাজ্যের তরফেই খুঁড়ে রাখা হয়েছিল
বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের একাংশ। তাঁদের মতে পুলিশমন্ত্রীর সবুজ সংকেত ছাড়া এতগুলি মামলা হওয়ার কথা নয়।
তবে
পাল্টা যুক্তি হচ্ছে রাজ্য পুলিশের তদন্ত মাঝ পথেই থমকে যায়। উঁচুতলা তদন্ত সঠিক ভাবে হোক চাইলে সেই তদন্তের অগ্রগতি হত। মাথা না হোক মেঝে সেঝ কেউ গ্রেফতার হত। কিন্তু সেটা হয়নি। দায়সারা ভাবে তদন্ত হয় এবং কোন কেউকেটা ধরা পড়ে
নি। কিন্তু সেই মামলাই পথ দেখিয়েছে ইডিকে। সেই মামলার সূত্র ধরেই তদন্ত করে প্রাথমিক সাফল্য পেয়ছে ইডি। অন্যদিকে বর্তমান খাদ্যমন্ত্রীর বাড়িতে হানা দেওয়ার পরেই এই মামলায় ব্যাপক অগ্রগতি
হয়। একের পর এক লিড পায় ইডি। সর্বশেষ গ্রেফতার
হন রাজ্যের দাপুটে মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি রাজ্য প্রশাসনই পথ প্রশস্ত করল মন্ত্রীর শ্রীঘর
যাত্রার। এরই মাঝে মন্ত্রী বারংবার নিজেকে নির্দোষ বল দাবি
করছেন। তাহলে আসল দোষী কে? প্রশ্নটা কিন্তু রয়েই গেল।