ঈশ্বরের কি মৃত্যু হয়? কিন্তু তারপরেও তিন তিনটে বছর ঈশ্বর নেই পৃথিবীতে। নেই ফুটবলের ঈশ্বর দিয়েগো মারাদোনা। তার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে কোটি কোটি ভক্তদের চোখে জল। গত বছর মারাদোনাহীন বিশ্বকাপও দেখেছে বিশ্ব। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর। ইহ জগতের মায়া কাটিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন ফুটবল রাজপুত্র।
বিশ্বকাপ হাতে সেই ছবি আজও অমলিন। আটের দশকের সেরা মুহূর্ত হয়ে থেকে গিয়েছে। বুয়েনস আইরেসের শহরতলি কিংবা নাপোলির অলিতে গলিতে দিয়েগো নামের কত বাচ্চা যে আছে, তার ইয়ত্তা নেই। রাস্তায় কাগজের বল নাচানো ঝাঁকড়া চুলের এক কিশোর কখন যে ঈশ্বর হয়ে গিয়েছিলেন, কে জানে! ৫ ফুট ৫ ইঞ্চির বাঁ পায়ের জাদুতে আজও মোহিত ফুটবল দুনিয়া। যিনি মার খেতে খেতে একাই বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন আর্জেন্টিনাকে। ইতালির নাপোলিকে ইউরোপের অন্যতম সেরা ক্লাব করে তুলেছিলেন। যেন সংগ্রামী মানুষের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা।
১৯৮৬ সালের ২২ জুন। মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের সামনে আর্জেন্টিনা। প্রথমে সেই বিতর্কিত ‘ঈশ্বরের হাত’, আর তার পর মাঝ মাঠ থেকে ঐতিহাসিক দৌড়। ইংল্যান্ডের একের পর এক খেলোয়াড়কে মাটি ধরিয়ে মারাদোনা যখন ষাট মিটারের রূপকথার দৌড় থামালেন, তখন‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হয়ে গিয়েছে। বল ইংল্যান্ডের জালে। ২০০৮ সালে প্রথম কলকাতাতে পা রেখেছিলেন মারাদোনা। সেই স্মৃতিতে বাঙালিদেরও জুড়ে নিয়েছিলেন তিনি। মারাদোনা সুখেও আছেন, দুঃখেও আছেন। বলা উচিত, মারাদোনা না থেকেও আছেন। ঈশ্বর আবার কখনও মারা যান নাকি!