নিউজ ডেস্ক: জাতীয় সঙ্গীত এর অবমাননা মামলা। ১২ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হল হেয়ার স্ট্রিট থানায়। যাদের
বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই তালিকায় রয়েছেন শুভেন্দু
অধিকারি, মনোজ টিগগা, শঙ্কর ঘোষ সহ
অন্যরা।
বুধবার
বিধানসভার বাইরে আম্বেদকর মূর্তির নিচে অবস্থান মঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ২৪
ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিয়েই ফেললেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে অনুমতি ছাড়া
অবস্থান করার জন্য নয় তৃণমূলের দাবি মত
জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় উঠে না জানানোর জন্য।
বিধানসভায় বুধবারের ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন
অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “গতকালের ঘটনায় অভিযোগ আমি পেয়েছি। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় সংগীত ওরা
শুনতে পেয়েছি কি পাইনি সেটা ওদের ব্যাপার। অনেক সাংবাদিক ওখানে ছিল তারা তো শুনতে
পেয়েছে। দূরত্ব খুব বেশি ছিল না”।
কি হয়েছিল বুধবার?
মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন তারা স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অবস্থান করেছিলেন। বিজেপির অবস্থানে নাকি স্পিকারের অনুমতি নেওয়া
হয়নি। বিরোধীদের দাবি, শাসকের বিরোধিতা করার জন্য বিধানসভায় স্লোগান নেওয়ার
রীতি নেই। অথচ সেই ঘটনার জন্য স্পিকার কে
ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে
এদিন অবস্থান বিতর্কে না ঢুকে কার্যত এই বিতর্ককে অন্যদিকে নিয়ে গেল তৃণমূল
কংগ্রেস। বৃহসপতিবার শোভন দেব
চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ও তাপস রায় চিঠি দেন অধ্যক্ষ কে।
তৃণমূল শিবিরের দাবি তাদের কর্মসূচি শেষে জাতীয় সংগীত গাওয়া
হয়েছিল খালি গলায়। সেই সময় প্রায় ২০০ মিটার দূরে সেই সময়
স্লোগান দিচ্ছিলেন বিজেপি বিধায়করা। বিজেপি বিধায়কদের দাবি, তৃণমূলের তরফে তাদের জাতীয় সংগীত গাওয়ার কথা
জানানো হয়নি। এবং সেই সময় তৃণমূল পাল্টা চোর চোর স্লোগান দিচ্ছিল। জাতীয় সঙ্গীতের বিষয়টি তারা শুনতে পাননি। অথচ এই
বিষয়টিকে ইস্যু বানিয়ে বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
বিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিজেপি
শিবিরের দাবি বিষয়টিকে ইমোশনাল টাচ দিতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। শংকর ঘোষ এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা শুনছিলাম ওনারা চোর চোর
স্লোগান দিচ্ছেন। হঠাৎ কখন জাতীয় সংগীত গেয়েছেন আমাদের
জানা নেই। চোর স্লোগান দেওয়ার পর যে কেউ জাতীয় সংগীত গাইতে
পারে এটাই তো আমাদের জানা ছিল না। বারবার জাতীয় সংগীতের অবমাননা করেছেন
মুখ্যমন্ত্রী। আগে ওনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক”। উল্লেখ্য
শুভেন্দু অধিকারির বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ রয়েছে উচ্চ আদালতের। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ
হলেও তা এফআইআর হয়েছে কি না জিজ্ঞেস করা হলে কলকাতা পুলিশের তরফে এবিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া
মেলেনি।