নিউজ ডেস্ক: ইডির হাতে ধরা পড়ার ভয়ে পালিয়ে গিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। এমনটাই দাবি করল ঝাড়খণ্ডের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। সোমবার সকালে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর বেশকিছু নথি এবং একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে তারা। কিন্তু দেখা মেলেনি হেমন্তর। এরপরই পদ্ম শিবিরের তরফে দাবি করা হয় নিখোঁজ হয়েছেন হেমন্ত।
সোমবার সকালে একটি জমি কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত মানি লন্ডারিং মামলায় ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালাই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। সোমবার সকাল ৭টা থেকে ইডির একটি দল দিল্লির শান্তিনিকেতনে সোরেনের বাড়ি সহ ৩টি জায়গায় তল্লাশি চালায় গভীর রাত পর্যন্ত। তবে ইডির দলটি দেখা পায়নি মুখ্যমন্ত্রী সোরেনের। তবে তল্লাশির পরে বেশকিছু নথি সহ একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে। জানা গিয়েছে ইডির বাজেয়াপ্ত ওই গাড়িটির নম্বর হরিয়ানার। হেমন্তকে না পেয়ে ইডির তরফে বিমানবন্দরে একটি সতর্কবার্তা জারি করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থাটি। ইডির একটি সূত্রের মারফত খবর হেমন্ত সোরেন ‘নিখোঁজ; এবং তাঁর সমস্ত ফোনই বন্ধ। তার সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারেনি ইডি।
ইডির তল্লাশিতে হেমন্তকে পাওয়া না যাওয়ার পর থেকেই পদ্মশিবির থেকে দাবি করা হয় ধরা পড়ার ভয়ে পালিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী তারা আরও দাবি করে হেমন্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তিও নিখোঁজ হয়েছেন। তবে ঝাড়খণ্ডের শাসক দল জেএমএমের তরফে অবশ্য পালটা অভিযোগ করা হয়েছে যে হেমন্তকে ‘পলাতক’ হিসেবে বদনাম করতে চাইছে বিজেপি। শাসক দলের তরফে দাবি করা হয় বুধবার দুপুর ১টার আগেই ইডির মুখোমুখী হবেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্রের খবর সোমবার সকালে ইডি তল্লাশি অভিযান শুরু করার সময় থেকে দুপুর পর্যন্ত দিল্লির বাড়িতেই ছিলেন হেমন্ত সোরেন। দুপুর আড়াইটে নাগাদ নিরাপত্তারক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে বাইরেও বেরতে দেখা যায় তাঁকে। ঝাড়খণ্ডের শাসক দল জানিয়েছে সন্ধ্যেবেলা বিমানে রাজধানী রাঁচিতে ফিরে এসেছেন হেমন্ত। এবং ইডির তল্লাশিতে কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে গেরুয়া শিবির এ কথা মানতে নারাজ। সোমবার ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সভাপতি বাবুলাল মারাণ্ডি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে লেখেন, ‘মধ্যরাতে চটি পরে এবং চাদরে মুখ ঢেকে দিল্লির বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটেই বেরিয়ে গিয়েছেন হেমন্ত’। অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে দাবি করেছেন, “টালমাটাল পরিস্থিতি’তে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সেই পদে নিজের স্ত্রীকে বসাতে চাইছেন হেমন্ত’। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে নিশিকান্ত আরও লেখেন, “হেমন্ত জেএমএম, জোটশরিক কংগ্রেস এবং অন্যান্য দলের বিধায়কদের ব্যাগপত্র গুছিয়ে রাঁচীতে চলে যেতে বলেছেন। সেখানে নাকি প্রস্তাব দেওয়া হয় হবে কল্পনা সোরেনকে মুখ্যমন্ত্রী করার’।
এর আগে মোট ৯ বার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। কিন্তু প্রতিবারই তা এড়িয়ে গিয়েছিলেন শিবু সোরেনের পুত্র। গত শনিবার ফের নতুন করে হেমন্তকে সমন পাঠায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রথমে ঝাড়খণ্ডের এই হেভিওয়েট নেতাকে ২৭ থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে দিল্লিতে তাদের দফতরে হাজির হতে বলে ইডি। কিন্তু সেই সমনের জবাব না পেয়ে তাকে ২৯ অথবা ৩১ জানুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য সময় দিতে বলে তারা। কিন্তু তারও জবাব না পাওয়া ইডির তরফে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।