নিউজ ডেস্ক: হাতির তান্ডবে কৃষিকাজ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছিলেন আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান সীমান্তবর্তী শহর জয়গাঁর খোকলাবস্তি এলাকার কৃষকরা।জীবিকা নিয়ে রীতিমত সংশয়ে ছিলেন তারা। তবে বনদফতরের সহায়তায় ফের কৃষিকাজ শুরু করলেন আলিপুরদুয়ার জেলার কৃষকরা।তাদের কথায়, “এলাকার মানুষদের প্রধান জীবিকাই ছিল কৃষিকাজ, কিন্তু হাতির তান্ডবে কোনো ফসলই ঘরে তুলতে পারছিলাম না। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষিকাজ বন্ধ করতে হয়েছিল আমাদের।”এলাকায় নিত্যদিন হাতির দলের তাণ্ডব লেগেই থাকে। হাতির দাপটে মাঠের সফল মাঠেই নষ্ট হয়ে যায়। ঘরে কানা কড়িও তুলতে পারেন না। কোনও সময় বেঁচে যাওয়া সফল বিক্রি করেও খরচ ওঠাতে পারে না এলাকার কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গল থেকে হাতি এসে তান্ডব চালাচ্ছে কৃষি জমিতে, যার কারণে চাষবাস ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন তারা। বর্তমানে ভুট্টা, সরষা সহ অন্যান্য ফসল চাষের সময় থাকলেও হাতির তান্ডবে কোনও চাষই করতে পারছেন না তারা। তাদের কথায়, এলাকার প্রায় দশজনেরও বেশি কৃষক বর্তমানে চাষ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। চাষবাস না করতে পারলে কীভাবে সংসার এবং ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা চালাবেন তা নিয়েই চিন্তিত কৃষকরা।
পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে লোকালয়ে হাতির আনাগোনা রুখতে বনদফতরের কাছে সোলার ফেন্সিংয়ের দাবি জানিয়েছিলেন কৃষকরা। কৃষকদের এই দাবি মেনে এলাকার বক্সা ব্যাঘ্র জঙ্গল ঘিরে দীর্ঘ সাত কিলোমিটার সোলার ফেন্সিং তার লাগানো হয়েছে ।
কৃষকদের দাবি, এরপরই গত কয়েকমাসে হাতির আনাগোনা একদমই কমে গিয়েছে, কোনো কৃষি জমির ফসলও নষ্ট হয়নি। ফলে ধীরে হাতির তান্ডবে খালি পরে থাকা জমি গুলোতে চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা।