নিউজ ডেস্ক: চাটুকারিতা করতে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মিথ্যা
অভিযোগ করেছেন। খালিস্তানি মন্তব্যে অভিযোগের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিলেন বিরোধী দলনেতা।
একই মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। অগ্নিমিত্রা পল নিজেও বলেছেন তিনি
ওই পুলিশকে আপত্তিকর কথা বলেননি।
প্রসঙ্গত সন্দেশখালি যাওয়ার পথে মঙ্গলবার বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা
পল এবং বিজেপি নেত্রী অর্চনা মজুমদারের সঙ্গে বাক বিতণ্ডা হয় এক আইপিএস আধিকারিকের।
বিজেপি নেত্রীদের পুলিশকে ভালভাবে কাজ করার মন্তব্য করতে শোনা যায়। এর মাঝে হঠাতই ওই
পুলিশ আধিকারিক হিন্দী ভাষায় চেঁচাতে শুরু করেন। তিনি যা বলেন তার বাংলা অনুবাদ করলে
দাঁড়ায় “আমাকে খালিস্তানী কেন বলা হল। আমি পাগড়ি পড়ে ডিউটি করছি বলে। আমি আপনাদের ধর্ম
নিয়ে কিছু বলছি না।” যদিও ভিডিওতে অগ্নিমিত্রা পলকে এহেন মন্তব্য করতে দেখা যায় নি।
এর পর তৃণমূলকে কংগ্রেসের নেতা নেত্রী এবং মন্ত্রীরা ময়দানে নেমে পড়েন। আসরে নাম বেশ
কিছু শিখ সংগঠন। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য
ও সায়নী ঘোষ। তাঁরা কলকাতার দলীয় কার্যালয়ে একটি ভিডিও টেলিভিশিনে চালিয়ে দেখান। কিন্তু
সেই ভিডিওতেও পুলিশকেই চেঁচাতে দেখা যায় একইভাবে। অগ্নিমিত্রা পল যে বিতর্কিত মন্তব্য
করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে সেই কথা এবারও শোনা যায় নি। তবে এর পরেই বিজেপির কলকাতার
প্রধান কার্যালয় ও অগ্নিমিত্রা পলের আসানসোলের বাড়ি সহ একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ দেখান
শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ।
এবিষয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারি বলেন, “বিজেপির কাউকে
ধর্মীয়ভাবে চিহ্নিত করার প্রয়োজন পড়ে না। ওই আধিকারিক মমতার কাছে নম্বর বাড়াবার জন্য
নিজে নিজে প্রলাপ করেছেন। দলের কেউ তাঁকে নিয়ে ধর্মীয় মন্তব্য করেছে বলে দেখা বা শোনা
যায়নি। তৃণমূলের হয়ে ব্যাটিং করেছেন ওই পুলিশ” তাঁর আরও অভিযোগ রাজ্যের পুলিশ দলের
ক্যাডারের মত আচরণ করছে। আইন আদালত কিছুই মানছে না। একদিন আগে যে পুলিশ রাজ্যের মন্ত্রীদের
সন্দেশখালিতে জামাই আদর করে ঢোকালে সেই পুলিশ পরের দিন সাংবাদিককে মামলায় ফাঁসিয়ে দিল।
বিরোধীদের আটকাতে পুরো জোর লাগিয়ে দিয়েছে রাজ্যের পুলিশ। বিজেপির অভিযোগ চাপে পড়ে সন্দেশখালির
আসল ইস্যু থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই ওই পুলিশ শাসকের ক্যাডারের মত আচরণ করছেন মত বিজেপি
শিবিরের।