পুলিশ এবং পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে মহেশতলা
পৌরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেহমানপুরের বাসিন্দা খুশি রায় (বসু) পেটে ব্যথার
সমস্যা নিয়ে রবিবার দুপুর বারোটা নাগাদ মহেশতলা পৌর হাসপাতালে যান। অভিযোগ ওই
মুহূর্তে খুশিকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে বাড়ি চলে
যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সন্ধ্যা নাগাদ তার আবারো শারীরিক অবস্থা খারাপ
হওয়ায় পরিবারের লোকজনেরা মহেশতলা পৌর হাসপাতালে নিয়ে আসে। পৌর হাসপাতালের
কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা ওই মুহূর্তে বেশ কিছু ঔষধ কিনে আনার পরামর্শ দেন।
পরিবারের অভিযোগ সেই ওষুধ খাবার পর থেকেই খুশির
শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি ঘটায় চিকিৎসকেরা অন্যত্র নিয়ে
যাবার পরামর্শ দেন। কিন্তু সমস্যা হয় নিয়ে যাওয়ার জন্য পৌর হাসপাতাল থেকে কোন
প্রকার অক্সিজেন সিলিন্ডার দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন হল
শ্বাসকষ্ট জড়িত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকেরা কেন অক্সিজেন সিলিন্ডার দিতে
চাইলেন না?
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে হাসপাতালে যে ধরনের
সিলিন্ডার থেকে অক্সিজেন দেওয়া হয় তা আকৃতিতে অনেকটাই বড় এই বৃহৎ আকার অক্সিজেন
সিলিন্ডার অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া সমস্যার থাকার জন্যই তারা দিতে চাননি।
ফলস্বরূপ যা হওয়ার ঠিক তাই হলো অর্থাৎ নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হল খুশির।
বজবজের চৌরাস্তার বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া মাত্রই কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা
তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এর পরই পরিবারের লোকেরা অ্যাম্বুলেন্স ঘুরিয়ে পুনরায়
পৌরসভার হাসপাতালের মৃতদেহ নিয়ে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিবারের দাবি
সময় থাকতেই যদি রোগী অন্যত্র নিয়ে যাবার পরামর্শ চিকিৎসকেরা দিতেন তাহলে খুশি কে
বাঁচানো যেত। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে আত্মীয় পরিজনেরা এক সময় বজবজ
ট্রাঙ্ক রোড অবরোধ করবার জন্য উদ্যোগী হয়। যদিও মহেশতলা থানার পুলিশ সময় মত
ব্যবস্থা নেওয়ায় অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি।