নিউজ ডেস্ক: দোল মানেই শান্তিনিকেতন। তবে শান্তিনিকেতনে এবারও হচ্ছে না বসন্তোৎসব। এনিয়ে টানা পাঁচ বছর ছেদ পড়ল শান্তিনিকেতনের বসন্তোৎসবে৷ তবে কেন এবারও বসন্তোৎসব করল না বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ, তা নিয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। সূত্রের খবর, ভিড়ের কথা ভেবেই বিশ্বভারতীর কর্তৃপক্ষ দোলের দিন বসন্তোৎসব বাতিল করেন। ২৫ মার্চ বিশ্বভারতী চত্বরে পর্যটকরা যাতে না-ঢুকতে পারে সেজন্য নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকবে, এমনটাই জানা গিয়েছে।
যদিও, বসন্তোৎসবের আশায় বোলপুর-শান্তিনিকেতনে সমস্ত হোটেল, রিসর্ট, লজ বুক হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।
ফলে খুশি হোটেল মালিকরাও। তাঁদের কথায়, ‘বসন্ত উৎসব যদি বন্ধ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে বহু টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছিল। এখনও এই উৎসবের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তাই এই অবস্থায় পর্যটকদের জন্য পাড়ায় পাড়ায় দোল উৎসবের আয়োজন করলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এরফলে একদিকে যেমন পর্যটকরা দোল উপভোগ করতে পারবেন, তেমনই শান্তিনিকেতনের ব্যবসায়ীদেরও লাভ হতে চলেছে।’
ইতিমধ্যেই এই পাড়ায় পাড়ায় দোল এবং সোনাঝুরি হাটে জমায়েতের কথা মাথায় রেখে ট্রাফিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কোথায় গাড়ি পার্ক করা হবে? সেই সম্পর্কে দেওয়া হয়েছে বিস্তারিত তথ্য। তবে শান্তিনিকেতনে বসন্তোৎসব না-হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ বিশ্বভারতীর পড়ুয়া থেকে প্রাক্তনীদের।
প্রসঙ্গত ২০১৯ সালে শেষ বার শান্তিনিকেতনের আশ্রম মাঠে হয়েছিল বসন্তোৎসব। সেবার অত্যাধিক ভিড় ও প্রশাসনিক ব্যর্থতায় চরম বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। এরপর ২০২০ ও ২১ সালে কোভিড পরিস্থিতির জন্য বন্ধ ছিল বসন্তোৎসব। ২০২২ ও ২৩ সালে তৎকালীন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বসন্তোৎসবের আয়োজন করেননি ৷ তাই এবার অনেকেই মনে করেছিলেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সঞ্জয় কুমার মল্লিক হয়তো বসন্তোৎসবের আয়োজন করবেন ৷ কিন্তু এবারও শান্তিনিকেতনে দোলের দিন হচ্ছে না ঐতিহ্যবাহী বসন্তোৎসব।
তবে জানা গেছে দোলের পর কোনও একদিন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক, কর্মী এবং আশ্রমিকদের নিয়ে বসন্ত উৎসব করবে। সেখানে অবশ্য বহিরাগতদের প্রবেশের অনুমতি থাকবে না।