নিউজ ডেস্ক : এ বসন্ত শুধু রঙের বসন্ত নয়,বরং ফুলের বসন্ত। দোলের দিন রং বা আবির নয় ফুলের সাজে সেজেই দোল উৎসব ওদের। ওরা বলতে, দৃষ্টিহীনেরা। শহর কলকাতার বুকে লাইট হাউস ফর দ্য ব্লাইন্ড স্কুলে পড়ানো হয় দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত। প্রতি বছর “শারদীয়া” আয়োজন করে “ফুলদোল”। এবার দশম বর্ষে পা দিল দৃষ্টিহীনদের ফুলদোল। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও একই সঙ্গে মেতে ওঠেন ফুলদোল উদযাপনে।
আমরা দোলে নিজেদের বিভিন্ন রঙের রাঙিয়ে তুলতেই ব্যস্ত থাকি দিনভর। কিন্তু ওরা সাজে ফুলের পাপড়ি আর ফুলের মালায়। ওদের অনেকেরই দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে রংয়ের জন্য, যার ফলে ওদের মধ্যে কাজ করে ভয়। ওদের কাছে রঙ হোক বা আবির সবকিছুই কালো। তাই দীর্ঘ ১০ বছর ধরে একই রকমভাবে দৃষ্টিহীন ছেলেমেয়েরা মেতে ওঠে আনন্দে। ফুল ছুঁড়ে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়েই ওরা উদযাপন করে দোল।
এবার দশম বর্ষে পা দিল দৃষ্টিহীনদের ফুলদোল। এ প্রসঙ্গে শারদীয়ার প্রতিষ্ঠাতা সৌমেন কুমার সাহা বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবছরও ফুলদলের মাধ্যমে ওদের জীবনের কিছুটা সময় রঙিন করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য”।
গন্ধ আর স্পর্শকে হাতিয়ার করে গোটা স্কুল চত্বরজুড়ে গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া এবং হরেকরকম ফুলের হোলিতে মাতে এই দৃষ্টিহীন পড়ুয়ারা ৷ আর এই আনন্দযজ্ঞে সামিল হয় ওঁদের পুরো পরিবারও। দোলের উৎসবে দৃষ্টিহীন ছাত্র-ছাত্রীরা নাচ-গান করেন এবং সকলে মিলে সুরের তালে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন ৷