রাজ্যে গত পঞ্চায়েত ভোটে হওয়া হিংসার ঘটনার
প্রভাব পড়ল আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে (Loksabha Election 2024) । ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলার (West Bengal) জটিল বা
উপদ্রুত ভোটকেন্দ্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গত পঞ্চায়েত ভোটে হওয়া হিংসার ঘটনাকে
গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্যের
নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) গত পঞ্চায়েত ভোটের (Panchayet election) তথ্য ধরে নতুন করে এই ধরণের জটিল ভোটকেন্দ্র
বেছে তার তালিকা পাঠাতে হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে। এই কারণে রাজনৈতিক
বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে আগামী লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে এই ধরণের ভোট কেন্দ্রের
সংখ্যা ২৫-৩০ শতাংশ বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি বাড়তে পারে এই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ভোট
কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের সরাসরি নজরদারি বা নিরাপত্তার বলয়ও। এই ধরণের ঘটনা রাজ্যে
নজিরবিহীন। কারণে অতীতের কোনও ভোটে এই ধরণের পদক্ষেপের
নজিরের কথা মনে করতে পারছেন না প্রশাসনের অনেক প্রবীণ আধিকারিকরাও।
আসন্ন লোকসভা ভোটকে ঘিরে এ রাজ্যে একের পর এক
নজিরবিহীন ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে অভূতপূর্বভাবে নির্বাচন
কমিশন সারা দেশের নিরিখে এ রাজ্যে সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের আর্জি
জানানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে। এছাড়াও নজিরবিহীনভাবে ভোট
ঘোষণার আগেই এ রাজ্যে মোতায়েন করা হয়েছে ১৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। যা এর আগে
বাংলায় কোনো ভোটেই কখনও দেখা যায়নি। প্রসঙ্গত, চলতি মার্চ
মাসের গোড়াতেই রাজ্যে জাতীয় নির্বাচনের ফুল বেঞ্চ এসেছিল পর্যবেক্ষণ করতে। ওই ফুল
বেঞ্চ তখনই পরিস্কার করে দিয়েছিল যে কেবলমাত্র বিগত লোকসভা বা বিধানসভা ভোট নয়,
বরং আসন্ন লোকসভা ভোটের প্রস্তুতিতে কাজে লাগানো হবে পঞ্চায়েত ভোটের
অভিজ্ঞতাকেও। উল্লেখ্য, লোকসভা এবং বিধানসভা ভোট সরাসরি
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অধিনস্থ, অন্যদিকে পঞ্চায়েত ভোট
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অধীনেই থাকে।
মার্চ মাসের গোড়ায় রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের ফুল
বেঞ্চ বাংলায় আসার পর প্রতিটি জেলা ধরে ধরে ভোট চলাকালীন হিংসা বা ভোটে গরমিলের
তথ্য তুলে ধরে জেলা কর্তাদের প্রশ্ন করেছিল। যদিও জেলার প্রশাসনিক সূত্রের দাবি
অনুযায়ী তারা অনেক আগেই কোন জেলায় কত ‘ক্রিটিকাল’ বা জটিল বুথ রয়েছে তার তথ্য
রিপোর্ট আকারে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে পাঠিয়ে দিয়েছে। এমনকী লোকসভা ভোটের দিনক্ষণ
ঘোষণা হওয়ার পর নির্দেশ পেয়ে সেই রিপোর্ট ফের খতিয়েও দেখে জেলা প্রশাসন। জেলা
প্রশাসনিক কর্তাদের অনেকেই জানাচ্ছেন, রাজ্যে গত
পঞ্চায়েত ভোটে হওয়া হিংসা, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতা,
কম ভোটদানের হার থাকা এলাকাগুলিকে তাদের নতুন সমীক্ষায় ‘ক্রিটিকাল’
বুথ হিসেবে রাখতে হয়েছে। যার ফলে কোনও জেলায় আগের তুলনায় এই ধরণের বুথের সংখ্যা
বেড়েছে ২০-২৫ শতাংশ আবার কোনো জেলায় বেড়েছে ৩৫-৪০ শতাংশ।
কমিশনের একটি সুত্রের কথা অনুযায়ী এই ক্রিটিকাল
বুথের সংখ্যা বাড়ার ফলে ওয়েবকাস্টের সংখ্যাও বাড়বে। কারণ নির্বাচন কমিশনের নীতি
অনুযায়ী,
মোট বুথের ৫০ শতাংশ বা ক্রিটিকাল বুথের সংখ্যার মধ্যে যেটা বেশি হবে
ততগুলি ভোটকেন্দ্রে ওয়েবকাস্ট করতে হবে। প্রসঙ্গত, সংশ্লিষ্ট
ভোটেকেন্দ্রে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভোট প্রক্রিয়ার ভিডিয়ো সরাসরি কমিশনের
কন্ট্রোলরুমে সম্প্রচারিত হওয়াকে বলা হয় ওয়েবকাস্ট। জাতীয় কমিশনের প্রাথমিক হিসেব
অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৮০ হাজার ৪৫৩টি। এই কেন্দ্রগুলির মধ্যে
গ্রামীণ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৬০ হাজার ৮৪৩টি এবং শহরের ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৯
হাজার ৬১০টি। রাজ্যের মোট ভোটকেন্দ্রের ৫২ শতাংশ বুথে অর্থাৎ ৪২ হাজার কেন্দ্রে
আসন্ন লোকসভা ভোটে ওয়েবকাস্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু নতুন
করে ক্রিটিকাল বুথ সংখ্যা বাড়ার ফলে এই ওয়েবকাস্টের সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে দাবি
কমিশন সূত্রের।