নিউজ ডেস্ক: কোনও রকমে
জিতল পর্তুগাল। একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করলেন রোনাল্ডো। ইউরোয় চেকিয়ার বিরুদ্ধে পিছিয়ে
পড়ে জিতল পর্তুগাল। পর্তুগালের পারফরম্যান্স ভাল ছিল না শেষ
বিশ্বকাপে। পর্তুগালের জার্সিতে ইউরোতে
ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো ভেলকি দেখাতে পারলেন কই। প্রথমার্ধেই
নিশ্চিত দুটি সুযোগ মিস করেন রোনাল্ডো। একবার গোলরক্ষককে একা
পেয়েও জালে বল জড়াতে ব্যর্থ হন পর্তুগালের এই তারকা। পর্তুগালের বহু নিশ্চিত গোল বাঁচালেন চেকিয়া গোলরক্ষক স্টানেক। দ্বিতীয়ার্ধে এগিয়ে যায় চেকিয়া। পরে তাঁদের আত্মঘাতী গোলের সমতা ফিরে পায় পর্তুগাল।একেবারে শেষ বেলায় কনসেসার গোলে কোনমতে মানরক্ষা করে পর্তুগাল।
প্রথমার্ধে গোলশূন্য দুইপক্ষ
৮ মিনিটের মাথায় প্রথম
গোল করার সুযোগ পান রোনাল্ডো। বক্সে ভেসে আসা বলে
মাথা ছোঁয়ান তিনি। কিন্তু বল জালে জড়াতে পারেননি
ক্রিশ্চিয়ানো। খুবই ছটফট করে ওঠেন ৩৯
বছরের এই ফুটবলার। বোঝা যাচ্ছিল দেশের জার্সিতে গোল করতে
কতটা মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন তিনি। মাঝেমধ্যে
দূর থেকেও শট নেওয়ার চেষ্টা করেন পর্তুগালের এই স্ট্রাইকার।
২৫ মিনিটে ফের্নান্দেস শর্ট একটুর জন্য বারপোস্টের উপর
দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর ফের ৩২ মিনিটে সহজতম
সুযোগ পেয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো। বক্সের মধ্যেই রোনাল্ডোকে
বল এগিয়ে দেন ফের্নান্দেস। গোলরক্ষককে
একা পেয়েও গোল করতে পারেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তার
বাঁ পায়ের শট বাঁচিয়ে দেন স্টানেক।
বিরতির ঠিক আগেই একবার গোল লক্ষ্য করে ফের শট মারেন তিনি। এবারও দুর্ভেদ্য প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন চেকিয়ার গোলরক্ষক। বিরতিতে গোলশূন্য অবস্থাতেই ফিরে যায় দুই দল।
পর্তুগালকে আটকাতে ব্যর্থ চকিয়া
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেপর্তুগিজ আক্রমণের সেই একই ছবি দেখা যায়। চেকিয়ার
ডিফেন্স ভেঙে গোলের দিকে এগিয়ে যায় একের পর এক পর্তুগিজ
আক্রমণ। কিন্তু গোলের মুখ খুলতে পারছিল
না পর্তুগাল। এর জন্য লিয়াওকে অনেকে দায়ী করেন। বেশিক্ষণ পায়ে বল রাখার খেসারত দিতে হয় পর্তুগালকে। একা খেলার চেষ্টায় সমস্যায় পড়ে যায় পর্তুগাল। ঠিক সময়ে রোনাল্ডোকে বল দিলে হয়ত ফলাফলটা অন্য হতে পারত। ৬২ মিনিটের মাথায় খেলার গতির বিপরীতে এগিয়ে যায় চেক রিপাবলিক বক্সের
বাইরে ডান পায়ের বাঁক খাওয়ানোর সঠিক দিয়েগো কোস্টাকেকে পরাস্ত করে গোল করেন লুকাস। গ্যালারিতে বসে থাকা
পর্তুগিজ সমর্থকরা হতাশ হয়ে পড়েন। হতাশ দেখায় রোনাল্ডোকেও। বাধ্য হয়ে লাওকে তুলে
মেন্ডেসকে নামান পর্তুগালের কোচ। ফল মেলে হাতেনাতে। ৬৯ মিনিটের মাথায় বক্সে ভেসে আসা বলে হেড করেন মেন্ডেস। কিন্তু গোল কোনরকম ঠেকিয়ে দেব চেকিয়া গোলকিপার। কিন্তু
ফিরতি বলে ডিফেন্ডার রানাচের পায়ের লেগে গোল পোস্টে ঢুকে
যায় বল। আত্মঘাতী গোলে সমতা ফেরায় পর্তুগাল।
এরপরই আগিয়ে
যাওয়ার চেষ্টায় আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায়
পর্তুগাল। ৭১ মিনিটে বক্সে ঢুকে বা পায়ে জোরালো শর্ট মারেন
সিলভা। কিন্তু বাঁচিয়ে দেন স্টানেক।
কিন্তু ক্রস আটকাতে ভুল করেন ডিফেন্ডার। সেই বল ধরে গোল করেন
পরিবর্তন হিসেবে নামা ফ্রান্সিসকো কনসেসা। এরপর আর ম্যাচে
ফিরতে পারেনি চেকিয়া। হেরে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁদের।