নিউজ ডেস্ক: ক্রমাগত হারের ধাক্কা না সামলাতে পেরে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিয়ে নিলেন পাহাড়ি বিছে
বাইচুং ভুটিয়া। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে (Baichung
Bhutia) জানিয়ে দিলেন আর সংসদীয় রাজনীতিতে দেখা যাবে না তাঁকে। ফুটবল জীবন থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার পর রাজনীতিতে এসেছিলেন তিনি। ফুটবল
জীবনে তারকা হলেও অল্প সময়ের সংসদীয়
রাজনৈতিক জীবনে দাগ কাটতে না পেরে বিদায় নিয়ে নিলেন।
বাইচুঙের রাজনৈতিক জীবন
বাইচুঙের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ
থেকে। রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Baichung
Bhutia) তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট দিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে জোড়া ফুল প্রতীকে দার্জিলিং বিধানসভা আসন থেকে জীবনের প্রথম ভোটে
দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। এস এস আলুওয়ালিয়ার কাছে পরাজিত হন। ২০১৬ সালে সিলিগুড়ি
আসন থেকে ফের প্রার্থী করা হয় তাঁকে। সেবার সিপিআইএম প্রার্থী অশোক ভট্টাচার্য তাঁকে
হারিয়ে দেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে সেই যে হারের
যাত্রা শুরু রাজনৈতিক জীবনে সিকিমেও জয়ের মুখ দেখেননি তিনি। সেখানে হামরো সিকিম পার্টি তৈরি করেন। ভোটেও লড়েন। সেখানেও পরাজিত
হন। এরপর হামরো সিকিম পার্টিকে সিকিম ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট–এর সঙ্গে মিশিয়ে দেন। তাতেও জয় আসেনি। ২০২৪ এর বিধানসভা নির্বাচনে সিকিম
ক্রান্তিকারী মোর্চা ৩২ টির মধ্যে ৩১
টি আসনে জয়ী হয়। সিকিম ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (SDF) পায়
মাত্র ১টি আসন। বাইচুং ভুটিয়া এবার বারফাঙ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। সিকিম ক্রান্তিকারী
মোর্চার প্রার্থী রিকসাল দর্জি ভুটিয়ার কাছে ৪,৩৪৬ ভোটে পরাজিত হন। ১০ বছরের ৬
বার হেরে (পড়ূন ৬ গোল খেয়ে) অবশেষে রাজনীতি থেকে বিদায়
নিলেন বাইচুং।
রাজনীতি থেকে বিদায় (Baichung Bhutia)
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট বলেন,“সংসদীয় রাজনীতি আমার জন্য নয়। আমি সিকিমের পর্যটন ও খেলার উন্নয়নের জন্য অনেক কিছু ভেবেছিলাম। যদি জয়ী হতাম তাহলে সেগুলি করার চেষ্টা করতাম।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমি সেই সুযোগ পাইনি। আমার একমাত্র দুঃখ
আমি রাজ্যের উন্নয়নে অংশ নিতে পারলাম না। তবে আশা করছি আরও
বহু মানুষ আছেন, যারা রাজ্যের উন্নতির
জন্য আরও ভালো ভাবনা নিয়ে এগিয়ে আসবেন।
সিকিমের মানুষ সিকিম ক্রান্তিকারী মোর্চাকে (SKM) বিপুল
সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছেন। আশা করব তাঁরা
জনগণের জন্য কাজ করবেন এবং যা মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা পূরণ করবেন।” রাজনীতি ছাড়ার সময়ও পরাজিত
বাইচুং (Baichung Bhutia) স্পোর্টসম্যান স্পিরিট দেখালেন। নিজের রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে বলতে গিয়ে গৌতম
বুদ্ধের প্রসঙ্গ টানেন তিনি। বলেন,“গৌতম বুদ্ধ বলেছিলেন মানুষের উদ্দেশ্য ভালো হওয়া
উচিত। রাজনীতিতে আসার আমার একটাই উদ্দেশ্য ছিল, মানুষের জন্য
কাজ করা। রাজ্য ও দেশের উন্নতি করা। ফুটবল জীবনেও সৎ থেকেছি।
রাজনৈতিক জীবনেও সৎ ছিলাম।” নিজের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে
বাইচুং বলেন দীর্ঘ সময় যারা পাশে ছিলেন,তাঁরাআজ ব্যথিত। তবে এখানেই সবকিছু শেষ হয় হয়ে যাবে
না। আমি এখন নিজেকে সময় দিতে চাই। জীবনে আর কী কী করতে পারি, সেগুলি অন্বেষণ করব। নতুনভাবে আমার উদ্দেশ্য আবিষ্কার করতে চাই।”