নিউজ ডেস্ক: লাগাতার বৃষ্টি ও ডিভিসি জল ছাড়ার কারণে রাজ্যে বন্যা (WB Flood situation) পরিস্থিতি৷ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বহু মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন৷ সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কৃষিজীবী মানুষদের৷ লাগাতার বৃষ্টিতে সবজি চাষে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। বিভিন্ন জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিলেন কৃষিমন্ত্রী৷
রাজ্যের কৃষকদের ক্ষতি পর্যালোচনা করতে দফতরের সচিবদের নিয়ে শুক্রবার বৈঠক করেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদের চট্টোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, রাজ্যকে উপেক্ষা করে লাগাতার জল ছাড়ার ফলে বানভাসি (WB Flood situation) হয়েছে রাজ্যের আটটি জেলা। এক্ষেত্রে তালিকায় সেই সমস্ত জেলার নাম তালিকায় রয়েছে যেগুলির একটা বড় অংশ মূলত কৃষি প্রধান। তাই বন্যার ফলে বিপুলসংখ্যক কৃষিজীবি মানুষ অসুবিধার মুখে পড়েছেন ৷ এক্ষেত্রে একাংশের ফসল মাঠে নষ্ট হয়েছে ৷ আবার অনেকক্ষেত্রে ফসল কাটার পড়েও ক্ষতি হয়েছে ৷
তাই কৃষিমন্ত্রী জানান, ”মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন বন্যায় (WB Flood situation) ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাংলা ফসল বীমা যোজনার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আজ বৈঠকে মূলত আমরা জানার চেষ্টা করেছি কোন জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটা ৷ যেহেতু অধিকাংশ জায়গাতেই এখনও জল রয়েছে, তাই ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ এখনই নিশ্চিত করে বলার সম্ভব নয়।”
অন্যদিকে, রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি (WB Flood situation) ও তাতে ডিভিসির ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাতিল। চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন মাইথন এবং পাঞ্চেত জলাধার পরিচালনা করে দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেশন কমিটি বা ডিভিআরআরসি। পশ্চিমবঙ্গের চিফ ইঞ্জিনিয়াররাও সেই কমিটির সদস্য। একইসঙ্গে জানানো হয়, রাজ্যের অনুরোধ মেনে ১৪-১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিজার্ভার থেকে জল ছাড়া ৫০% কমানো হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে বড় বিপর্যয় এড়াতে বাঁধের জল ছাড়তে বাধ্য হয় ডিভিআরআরসি। যদিও ৪.২৩ লক্ষ কিউসেকের বদলে ২.৫ লক্ষ কিউসেক জলই ছাড়া হয়েছিল তখন।