নিউজ ডেস্ক: দানার প্রভাব শুরু হয়ে গিয়েছে বাংলায়। ইতিমধ্যেই উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে খেল দেখাতে শুরু করেছে নদী ও সমুদ্র। শহর কলকাতাতেও সকাল থেকে একনাগাড়ে হয়ে চলেছে বৃষ্টি। মাঝে-মাঝে বইছে বাতাস। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক অধিকর্তা সোমনাথ দত্ত জানিয়েছেন, দক্ষিণের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে, দু-এক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ঝড় আছড়ে পড়ার সময় পূর্ব মেদিনীপুরে হাওয়ার গতিবেগ থাকবে ১২০ কিমি প্রতি ঘণ্টা।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যাচ্ছে, কলকাতা ও তার লাগোয়া যে জেলাগুলি রয়েছে অর্থাৎ হাওড়া-হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা সেখানে আজ দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে সর্বোচ্চ চল্লিশ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে। এরপর ধীরে-ধীরে ঝড়-বৃষ্টি পরিমাণ বাড়বে। অতিভারী বৃষ্টির সম্ভবনা দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, বাঁকুড়া। এই পরিস্থিতি আজ ও কাল দুদিনই বজায় থাকবে। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই আজ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ন’টি জেলা ছাড়া কোথাও ভারী বৃষ্টি হবে না। এছাড়া জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত এবং শুক্রবার সকালের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরে হাওয়ার গতি বেড়ে ১২০ কিলোমিটারে পৌঁছে যেতে পারে। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপ, সুন্দরবন এলাকায় আজ রাত থেকে ঝড়ের গতি হতে পারে ৮০-৯০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।
কী কী ক্ষতি হতে পারে, সেই বর্ণনা দিতে গিয়ে আলিপুরের অধিকর্তা বলেন, গাছ ভেঙে পড়তে পারে জায়গায় জায়গায়। বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ লোডশেডিং হতে পারে দক্ষিণবঙ্গের একটা বড় অংশ জুড়ে। তবে দানার মোকাবিলায় প্রস্তুত কলকাতা পুরসভা। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। সারারাত জেগে কর্মীরা কাজ করবেন। যেখানে-যেখানে শহরবাসী অসুবিধায় পড়বেন তাঁরা চাইলেই কন্ট্রোল রুমে ফোন করতে পারেন। পুরকর্মীরা চলে যাবেন এলাকায়। এছাড়াও রিভার ট্রাফিক পুলিশ সর্বক্ষণ নজরদারী চালাচ্ছে।