Monday, March 04, 2024

Logo
Loading...

ঐতিহ্য

Loading...
  • Nobel Prize 2023: ইরানের মহিলাদের উপর হওয়া অত্যাচারের লড়াই করেছেন তিনি, জেলে বসেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নার্গিস মহম্মদি

    নিউজ ডেস্ক: গত কয়েকদিন ধরে একের পর এক নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরেক নাম। এই বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন ইরানের সমাজ কর্মী নার্গিস মহম্মদি। বেশ কিছুদিন ধরেই বিশ্বে পরিচিত নাম হয়ে উঠেছেন নার্গিস। আদপে ইরানের বাসিন্দা নার্গিস বহু বছর ধরেই মানবাধিকার নিয়ে লড়াই করছেন। এবার তার জন্যই পুরস্কার পেলেন তিনি। নোবেল পুরস্কার কমিটি জানিয়েছেন যে, 'নরওয়ের নোবেল কমিটি ঠিক করেছেন যে, এই বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হবে নার্গিস মহম্মদিকে। ইরানে নারীদের উপর হওয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে এবং মানবাধিকার ও স্বাধীনতার সপক্ষে যেভাবে তিনি লড়েছেন, যেভাবে আন্দোলন করেছেন এই পুরস্কার তার স্বীকৃতি।' 

    ইরানের মহিলাদের উপর বিগত বেশ কিছু বছর ধরে নানা ধরণের নিপীড়ন চলছে। গত বছরেই ঠিকমতো হিজাব না পরার জন্য এক ইরানি তরুণীকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছিল সেখানকার পুলিশের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন স্থানীয় বহু মানুষ। প্রকাশ্য রাজপথে হিজাব পুড়িয়ে ফেলেছেন বহু তরুণী। মহিলাদের উপর হওয়া এই সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে ও মানবাধিকার নিয়ে বহুদিন ধরেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নার্গিস। বর্তমানে ইরানেই জেলবন্দি রয়েছেন তিনি। গত বছর নভেম্বর মাসে গ্রেফতার হন নার্গিস। ২০১৯ সালের আন্দোলনে নিহতদের স্মরণসভায় যোগ দেওয়ার সময় তাঁকে গ্রেফতার করেন ইরানের পুলিশ।

    ৫১ বছর বয়সী এই সমাজকর্মী কার্যত জেলে বসেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন। নার্গিস মহম্মদি এখনও পর্যন্ত ১৩ বার জেলবন্দি হয়েছেন, ৫ বার দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। যদিও এখনো তিনি তাঁর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১০ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনো। সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নাম অনুযায়ী এই নোবেল পুরস্কার চালু হয়। তাঁর রেখে যাওয়া অর্থমূল্য থেকেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বর এই পুরস্কার জয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। 

    | 16:31 PM, Fri Oct 06, 2023

  • Hiralal Sen: চিকিৎসার জন্য বন্ধক দিতে হয়েছিল ক্যামেরা, পুড়ে গিয়েছিল সব ছবির স্টক- কেমন ছিল হীরালালের শেষ জীবন?

    নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনক হিসেবে সারা ভারতে উঠে আসে দাদাসাহেব ফালকের নাম। কিন্তু সাল-তারিখ হিসেব করে দেখলে জানা যাবে ফালকের প্রথম ছবি ‘রাজা হরিশচন্দ্র’ মুক্তি পায় ১৯৩১ সালে আর তার ১০ বছর আগেই প্রথম নির্বাক ছবি বানিয়ে ফেলেছেন এক অশ্রুতকীর্তি বাঙালি। অথচ তার নাম চলচ্চিত্রের জনক হিসেবে একসময় স্বীকৃতিই পেত না। হতভাগ্য সেই মানুষটির নাম হীরালাল সেন। ‘রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানি’র প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেই তাকে মনে রেখেছে বোদ্ধা সিনেপ্রেমীরা।

    ১৮৯৮ সালে হীরালাল সেন তৈরি করেন তার ‘রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানি’। প্রথমে তার ভাই মতিলাল সঙ্গী হলেও শেষদিকে তার সঙ্গেও বনিবনা হচ্ছিল না, ব্যবসা থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি। বায়োস্কোপ কোম্পানি তৈরি হওয়ার পর প্রথম দিকে ময়দানেই তাঁবু খাটিয়ে ছবি দেখাতেন হীরালাল। কলকাতা শহরের বিভিন্ন চলমান দৃশ্য ক্যামেরায় তুলে নিতেন, তারপর বাংলা থিয়েটারের অমরেন্দ্র দত্তের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বেশ কিছু মঞ্চসফল নাটকের রেকর্ডিংও করেন তিনি। কেউ বলেন ১৮৬৬, মতান্তরে ১৮৬৮ সালে বাংলাদেশের মানিকগঞ্জের বগজুড়ি গ্রামে তার জন্ম হয়। হেমাঙ্গিনী দেবীর সঙ্গে বিয়ে হলেও পরে কুসুমকুমারী দেবীর সঙ্গে হীরালালের সম্পর্ক নিয়ে বেশ চর্চা শুরু হয়েছিল আর কুসুমকুমারীর প্রেমেই একসময় পতনের পথে হাঁটতে শুরু করেছিলেন হীরালাল সেন।

    আরও পড়ুন: Mohammad Rafi Death Anniversary: পথচারীকে হাতে তুলে দিয়েছিলেন নিজের জুতো! সঙ্গীতশিল্পীর আড়ালে কতটা হৃদয়বান ছিলেন রফি?

    হীরালালের পিসতুতো দাদা দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন যে হীরালাল শেষ বয়সে বখে গিয়েছিলেন। ক্লাসিক থিয়েটারের অভিনেত্রী কুসুমকুমারীর প্রেমে ডুবে নেশায় মত্ত হয়েছিলেন হীরালাল। সংসারী ছিলেন না, বিষয়ীও ছিলেন না, সংসারের রাশ ধরে রাখতেন হেমাঙ্গিনী দেবী। আর কুসুমকুমারীর সঙ্গে সম্পর্ক জানাজানি হওয়ার পর সংসারের সঙ্গেও দূরত্ব বাড়তে থাকে হীরালালের, অঢেল টাকা ওড়ানোর কারণে দারিদ্র্য চেপে বসে হীরালালের জীবনে। বেহিসেবি খরচের জন্য ভাই মতিলালের সঙ্গে মনোমালিন্য হয় হীরালালের, ভেঙে যায় সাধের রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানি। আর তার পর থেকেই অবসাদে ডুবে যান হীরালাল। ধরা পড়ে ক্যানসার। স্ত্রী হেমাঙ্গিনী নিজের গয়না, বাড়ির আসবাব বেচে স্বামীর চিকিৎসার খরচ জুগিয়েছেন একসময়, কিন্তু তাতেও মেটেনি জ্বালা।

    একসময়  নিজের সাধের ক্যামেরাটি বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করতে চেয়েছিলেন হীরালাল। জানতেন আর হয়ত ফেরা হবে না। ১৯১৭ সালে এভাবেই দুরারোগ্য মারণব্যাধিতে চলে গেলেন হীরালাল আর সেই বছরই আগুন লাগল মতিলাল রায়ের বাড়িতে। পুড়ে ছাই হয়ে গেল সমস্ত ছবির স্টক। হীরালালের হীরের খনিতে এখন যুগ যুগান্তরের কয়লার কালি! 

    Editor | 16:08 PM, Wed Aug 02, 2023

সংস্কৃতি

  • Kolkata Heritage: পড়ুয়াদের জন্য মুক্ত পাঠাগার! নজির গড়ল ১৩৭ বছরের পুরনো কলেজস্ট্রিটের বইয়ের দোকান

    নিউজ ডেস্ক: কলকাতার সব থেকে পুরনো বইয়ের দোকান দাশগুপ্ত অ্যান্ড কোং এক নতুন উদ্যোগ নিতে চলেছে। পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে এই দোকানের চত্বরের মধ্যেই একটা অংশে চালু করা হচ্ছে মুক্ত পাঠাগার। বিনামূল্যে এখানে বই পড়তে পারবেন পড়ুয়ারা। যেসব পড়ুয়াদের বই কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের কথা ভেবেই মূলত এই উদ্যোগ নিতে চলেছে দাশগুপ্ত অ্যান্ড কোং।

    কলকাতার বুকে এই দোকানটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক ইতিহাস। এখানে ১৮৯০ থেকে ১৯০০ সালের বহু পুরনো বই, ঘড়ি ইত্যাদি দুষ্প্রাপ্য উপাদান রয়েছে, ফলে এর একটা আর্কাইভাল গুরুত্বও রয়েছে। যদিও ২০০৪ সালে একটি অগ্নিকাণ্ডে সেসবের অধিকাংশই পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। জানা গিয়েছে বইয়ের দোকানের দোতলায় সেই পাঠাগার তৈরি হতে চলেছে। দোকানের কর্ণধার ৭১ বছরের অরিন্দম দাশগুপ্ত বলেন যে, আগামী দুর্গাপুজোর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার বই নিয়ে চালু হতে চলেছে এই মুক্ত পাঠাগার। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এখানে দুপুর থেকে বিকেল ৬টার মধ্যে এসে বই পড়তে পারবেন পড়ুয়ারা। বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষারই বইপত্র থাকবে এখানে, সব বয়সের মানুষেরাই এখানে এসে বই নেড়েঘেঁটে দেখতে পারবেন। কর্ণধার আরো জানান যে এই পাঠাগারের মাধ্যমে বাংলা মাধ্যম এবং ইংরেজি মাধ্যম উভয় ব্যবস্থার ছাত্র-ছাত্রীরাই উপকৃত হবেন।

    আরও পড়ুন: Panchayat Election in Bengal: সরকার ও নির্বাচন কমিশন- ভোট ও ছাপ্পা! আসলে জনগণকে ধাপ্পা

    ১৮৮৬ সালে কলেজস্ট্রিটে তৈরি হয়েছিল এই বইয়ের দোকানটি যা বর্তমানে হেরিটেজ বুকশপ-এর আখ্যা পেয়েছে। এই বছর ১ জুলাই কলকাতা কর্পোরেশন এই দোকানটিকে গ্রেড ২ এ হেরিটেজের আখ্যায় ভূষিত করেছে। জানা গিয়েছে ২৪ জুলাই দোকানে লাগানো হবে নীল সিলমোহর। কিন্তু কেন বইয়ের দোকানের মধ্যেই পাঠাগার চালু করতে চাইলেন কর্ণধার অরিন্দম দাশগুপ্ত? তাঁর কথায় জানা যায়, এখন যেভাবে শিক্ষার প্রসার ঘটেছে তাতে লকডাউনের সময় তিনি দেখেছেন যে বহু মুসলিম-প্রান্তিক ছেলে-মেয়ে তাদের দোকানে এসে বই কিনত, দেখেই বোঝা যেত তাদের সামর্থ্য ছিল অনেকটাই কম। আর তাই সেই প্রান্তিক ছাত্র-ছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে এই পাঠাগার চালু করার পরিকল্পনা করেছেন অরিন্দম দাশগুপ্ত।

    ১৮৮৬-তে অরিন্দম পূর্বপুরুষ গিরিশচন্দ্র দাশগুপ্ত যশোরের কালিগ্রাম থেকে এদেশে এসে এই দোকানটি প্রথম চালু করেন। সেই থেকেই বহু ইতিহাসের সাক্ষী কলেজস্ট্রিটের বুকের এই দাশগুপ্ত অ্যান্ড কোং। আজও দিনে প্রায় ৪০০ মানুষ বই কিনতে হাজির হন ইতিহাস-প্রাচীন এই দোকানে। দেওয়ালে দেওয়ালে বইয়ের ধুলোর মধ্যে আজও যেন ইতিহাস কথা বলে।

    Editor | 15:54 PM, Sat Jul 15, 2023

  • Tala Bridge History: চলতি কথায় টালা ব্রিজ, পোশাকি নাম হেমন্ত সেতু, কে এই 'হেমন্ত' জানেন কী?

    নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ নয় দশক ধরে উত্তর কলকাতার মানুষের সাথী এই টালা ব্রিজ। ডানলপ, সোদপুর, দক্ষিণেশ্বর যেখান থেকেই শ্যামবাজার পাঁচ মাথা পেরিয়ে যেতে চান না কেন, টালা ব্রিজ পেরোতেই হবে। ২০১৯ সাল থেকে মেরামতির জন্য বন্ধই ছিল টালা ব্রিজ, বাস-প্রাইভেট গাড়ি সবই চলাচল করছিল পার্শ্ববর্তী লকগেটের রাস্তা দিয়ে। বিগত ২৪ সেপ্টেম্বর নতুন করে সাজানো টালা ব্রিজের উদ্বোধন হল। ১৯৩৬ সালে প্রথম চালু হয় এই টালা ব্রিজ, তবে অনেক পরে টালা ব্রিজের নতুন করে স্থায়ী কাঠামো তৈরি হয় ১৯৬৪ সালে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তখন প্রফুল্লচন্দ্র সেন। ব্রিজের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক লোককথা, অনেক ইতিহাস। অনেকেই জানেন, এই ব্রিজের পোশাকি নাম হেমন্ত সেতু। কিন্তু জানেন কী আসলে কে এই হেমন্ত? বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের নামেই কি এই সেতুর নাম? নাকি এই নামকরণের আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো ইতিহাস? 

    সরকারি নথির ইতিহাস বলছে, ১৯৭৩ সালের ৫ অক্টোবর টালা ব্রিজের নামকরণ হয় হেমন্ত সেতু। নামের মধ্যে এই হেমন্ত আসলে হেমন্তকুমার বসুকেই স্মরণ করায়। হেমন্তকুমার ছিলেন সুভাষচন্দ্র বসুর সহকর্মী এবং সারা ভারত ফরোয়ার্ড ব্লকের চেয়ারম্যান। তখন সত্তর দশক। নকশাল আন্দোলনের জোয়ারে পুরো বাংলা উত্তাল। তারই সঙ্গে বাংলাদেশে চলছে মুক্তিযুদ্ধ। রক্তাক্ত বাংলার রাজপথ রোজ আলিঙ্গন করছে নতুন নতুন মৃতদেহ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নির্বাচনে ফরোয়ার্ড ব্লকের হয়ে শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়ে দাঁড়ান হেমন্তকুমার বসু। ছিয়াত্তর বছরের এক বৃদ্ধের উপর হয়তো ক্ষোভ ছিল কারো।

    আরও পড়ুন: Flurys: হেরিটেজের তকমা পেল পার্ক স্ট্রিটের ফ্লুরিস, স্বীকৃতি দিল 'ইনটাক'

    ১৯৭১ সাল, ২০ ফেব্রুয়ারি। টাউন স্কুলের সামনে একদল আততায়ী আক্রমণ করে হেমন্তকুমার বসুকে। ভোজালির ঘায়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় তাঁর শরীর। রক্তে ভেসে যায় রাজপথ। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। টালা ব্রিজের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই রক্তাক্ত ইতিহাস। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তখন সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। তাঁর উদ্যোগেই হেমন্তকুমার বসুর স্মৃতিতে তাঁর ৭৮তম জন্মদিনে টালা ব্রিজের নাম বদলে রাখা হয় 'হেমন্ত সেতু'। কলকাতার দৈনন্দিন ব্যস্ততার আড়ালেই রয়ে গেছে এই ভুলে যাওয়া ইতিহাস। 

    Editor | 11:09 AM, Mon Jul 03, 2023

বিশেষ নিবন্ধ

  • রাজার আদেশ মেনেই নবমীর দিন নবকুমারী পুজো হয় বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে 

    নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর অন্যতম অঙ্গ কুমারী পুজো। অষ্টমীতে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পুজো মণ্ডপে এবং বনেদি বাড়িরগুলিতে কুমারী পুজোর প্রচলন আছে। আবার নবমীর দিনে তিথি ও রীতি মেনে কুমারী পুজো হয় বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। মহানবমীর দিনে রীতি মেনেই নয় কুমারীকে দেবী রূপে পুজো করা হল।

    ন'জন কুমারীকে দেবী দুর্গার "নয় রূপে" পুজো করা হয় এই মন্দিরে। ১৩ বছর পর্যন্ত বয়সী নাবালিকাদের দেবী দুর্গার বিভিন্ন রূপে পুজো করার নিয়ম সর্বমঙ্গলা মন্দিরে।

    দেবী এখানে অষ্টাদশভূজা। বয়সের প্রকারভেদ অনুসারে উমা, মালিনী, কুজ্জ্বিকা, সুভাগা, কালসন্দর্ভা সহ দেবীর ন'টি রূপে এখানে কুমারী বালিকাদের পুজো করার চল রয়েছে। পুজোর দিনগুলোয় ঐতিহ্য মেনেই অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয় সেই রাজ পরিবারের রীতিনীতি। নিয়মনিষ্ঠায় কোনও  নড়চড় হয় না। নবকুমারী পুজো দেখতে এ বছরও সর্বমঙ্গলা মন্দিরে বহ প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। অন্যান্য জায়গায় অষ্টমীতে কুমারী পুজো হলেও যেহেতু সর্বমঙ্গলা মন্দিরে নবরাত্রির পুজো হয় তাই এখানে নবমীতেই কুমারী পুজো হয়ে আসছে।

    কথিত আছে বাহির সর্বমঙ্গলা অঞ্চলে বাস করা চুনুরীদের কাছ থেকে পাওয়া কষ্ঠি পাথরের অষ্টাদশী ভূজা দেবী মূর্তি বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। ১৭৪০ সালে রাজা কীর্তি চাঁদ অষ্টাদশী দেবী মূর্তিকে প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে মহতাব চাঁদ মন্দির তৈরী করেন। রাজা ও রাজত্ব না থাকলেও রাজার নিয়ম নীতি সব এখনও বর্তমান। পুজোর দিনগুলোয় ঐতিহ্য মেনে অক্ষরে অক্ষরে মানা হয় সেই রাজ পরিবারের রীতিনীতি। নিয়ম নিষ্ঠায় কোনও নড়চড় হয় না। বর্ধমান শহর ছাড়িয়ে জেলা ও ভিন জেলার বহু ভক্ত নবকুমারী পুজো দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন।

    | 16:41 PM, Mon Oct 23, 2023

  • নয় রকমারি পদ দিয়ে নবমী পুজোর ভোগ নিবেদন হল কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে, পুজো দেখতে নেমেছে সাধারণ মানুষের ঢল

    নিউজ ডেস্ক: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির পুজোর মাহাত্ম্য আজও আকর্ষণীয় দর্শনার্থীদের কাছে। শাস্ত্র মতে প্রাচীন ধর্মীয় রীতিনীতি কে বজায় রেখে হোম যজ্ঞের মধ্যে দিয়ে রবিবার সূচনা হয়েছে নদিয়ার রাজা মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের রাজবাড়ির প্রাঙ্গনে দেবী দুর্গার আরাধনা। টানা নয় দিন ধরে এই যজ্ঞ চলে রাজবাড়িতে। নবমীর দিন যজ্ঞ শেষ হয়। রাজা কৃষ্ণ চন্দ্রের আমল থেকেই কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে যুদ্ধবেশী দেবী দুর্গা মহামায়া রূপে পূজিতা হয়ে আসছেন।

    কৃষ্ণচন্দ্রের আম থেকে এখনও পর্যন্ত পুজো থেকে বিসর্জন সবকিছুই হয় প্রাচীন রীতিনীতি মেনে। শাক্যমতে পুজো হওয়ায় বলিপ্রথাও ছিল এককালে। যদিও এখন সেসব বন্ধ হয়ে আখ, কলা ও চালকুমড়ো বলি হয়। এবছরও মহাধুমধাম করেই পুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুরাতম নিয়ম মেনেই সপ্তমীর দিন ৭ রকম, অষ্টমীর দিন ৮ রকম ও নবমীর দিন ৯ রকম পদের উপকরণ সাজিয়ে মাকে ভোগ নিবেদন কর হয়েছে। পুজো শেষে হয় শান্তি পুজো। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আমলে কামান দেগে পুজোর সূচনা হত। তবে কালের বদলের সঙ্গে বিলুপ্তি ঘটেছে কামান দাগার প্রথার। বর্তমানে আইনি ঘেরাটোপের মধ্যে পড়ে কামান দাগার প্রথা বন্ধ হয়েছে। কামান দাগার লোকও পাওয়া যায় না, যে এই কাজে পটু। 

    যদিও নিয়ম মেনে রাজবাড়ির প্রাঙ্গনে নির্মাণ হয় মা দুর্গার প্রতিমা। আধুনিকতাকে দূরে সরিয়ে প্রাচীন রীতিকে বজায় রেখে আজও প্রতিবছর বেয়ারাদের কাঁধে চেপে রাজ বাড়ির দিঘীতে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। পুজোয় রাজ পরিবারের সদস্যরা তো বটেই , অংশগ্রহণ করেন আরো সাধারণ মানুষ। নদিয়া জেলার দূর দূরান্ত থেকে পুজো দেখতে আসেন অনেকে। আবার রাজবাড়ির স্বাদ নিতে শহর থেকেও অনেকে ছুটে যান কৃষ্ণনগরে।

    | 16:11 PM, Mon Oct 23, 2023

  • Durga Puja 2023: এ যেন এক অন্য দেবী! মা দুর্গা পুজিতা হচ্ছেন নেপালি সংস্কৃতিতে

    নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো মানেই থিমের লড়াই। কলকাতার এপ্রান্ত থেকে সেপ্রান্ত সেজে ওঠে আলোর রোশনাইয়ে। সেই সঙ্গে রয়েছে একে অপরকে টেক্কা দেওয়া থিম। আবার সেই থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বদলে যায় মা দুর্গার প্রতিমা। কোথাও সাবেকিয়ানা আবার কোথাও ডাকের সাজ। আবার কোথাও থিমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন নকশায় বিভিন্ন রূপে দেখা মেলে মা দুর্গার।

    তবে শুধু শহর কলকাতায় নয় থিমের লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই জেলা গুলিও। এবার অপরূপা মা দুর্গার নেপালি মহিলা রূপে পুজো হচ্ছে। চিত্রটি আলিপুরদুয়ারের। কালচিনির ভারতীয় যুব সংঘে এলে দেখা যাবে এই ছবি। দশভূজার পরনে রয়েছে নেপালি মহিলার পোশাক। লক্ষ্মী ও সরস্বতীর পরনেও রয়েছে নেপালি মহিলার পোশাক। সঙ্গে রয়েছে নেপালি মহিলাদের গয়না। কার্তিক,গণেশকে দেখা গিয়েছে নেপালি পুরুষের পোশাকে। মাথায় ধাকা টুপির সঙ্গে রয়েছে খুকরি।

    আলিপুরদুয়ারের কালচিনির ভারতীয় যুব সংঘের পুজো এবার চার বছরে পা দিল। নেপালি সংস্কৃতিতে পুজো হচ্ছে। পুজোও করেন নেপালি পুরোহিত। মহাদেবকে স্থাপন করে পুজো হয় এখানে। দেবীকে নিবেদন করা হয় ১০৮ টি শালুক ফুল। কালচিনি গোরে লাইনের নেপালি সংস্কৃতির মানুষদের কাছে এই পুজো আবেগের। নেপালি পুরুষ ও মহিলারা নেপালি সংস্কৃতির পোশাক পরে এই পুজোতে অংশগ্রহণ করেন।

    | 15:37 PM, Mon Oct 23, 2023

  • প্রথা মেনে মহাষ্টমীতে বেলুড় মঠে কুমারী পুজো, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ঢল

    নিউজ ডেস্ক: প্রথা মেনেই মহাষ্টমীর দিন, রবিবার সকালে বেলুড় মঠে কুমারী পুজো শুরু হলো। মহাষ্টমীর সকালে প্রথমে অষ্টমী বিহিত পুজো অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল নটা নাগাদ শুরু হয় কুমারী পুজো। কুমারী পুজো দেখতে মঠে হাজির হন বহু মানুষ। স্বামী বিবেকানন্দ ১৯০১ সালে বেলুড় মঠে কুমারী পুজো শুরু করেছিলেন।

    স্বামী বিবেকানন্দের প্রচলিত সেই রীতি মেনেই বেলুড় মঠের সন্ন্যাসীরা মহাষ্টমীর দিন কুমারীকে দেবী হিসেবে উপাসনা করেন। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ ঠাকুরের মতে, অল্পবয়সী মেয়েরা যখন কুমারী থাকে সেই বয়সে জগতের নেতিবাচক শক্তি থেকে তারা দূরে থাকেন। তখনই তাদের মধ্যে মাতৃভাবনা প্রকাশ পায়। ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী বালিকাকেই কুমারী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়ে থাকে। 

    প্রতিমাকে জীবন্ত বিগ্রহরূপে পুজো করা হয় এইদিন। সকালে কুমারী পুজোয় উপস্থিত ছিলেন মঠের বরিষ্ঠ সন্ন্যাসীরা। চলতি বছরে কুমারীকে উমা রূপে পূজা করা হচ্ছে। এছাড়াও মহাষ্টমীর দিনে বেলুরমঠে আগত দর্শনার্থীদের জন্য খিচুড়ি ভোগের ব্যবস্থা করা হয়। প্রায় তিরিশ হাজার মানুষের জন্য খিচুড়ি ভোগের রান্না হয় বেলুড় মঠের প্রঙ্গণে।

    | 13:07 PM, Sun Oct 22, 2023

বাংলার ইতিহাস

  • Largest Marble Shiva Lingam: এশিয়ার বৃহত্তম কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ সহ মন্দির তৈরি করেছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র, কিন্তু কেন জানেন?

    নিউজ ডেস্ক: শ্রাবণের তৃতীয় সোমবারে বহু দূর দুরান্ত থেকে ভক্তরা এসে জল অর্পণ করতে এলেন এশিয়ার বৃহত্তম কষ্টিপাথরে শিবলিঙ্গ শিব নিবাসে। দূর দূরান্ত থেকে পুরুষ ও মহিলা ভক্তরা এসেছেন তাদের মনস্কামনা পূরণ করতে শিবনিবাস মন্দিরে জল ঢেলে। কিন্তু জানেন কি কেন এই মন্দির তৈরি করেছিলেন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়? জানা যায় মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র বাংলায় বর্গী আক্রমণের সময় তাঁর রাজধানী কৃষ্ণনগর থেকে এখানে সরিয়ে আনেন। শিবের ভক্ত কৃষ্ণ চন্দ্র তার আরাধ্যের নামে নামকরণ করেন শিবনিবাস। এখানে সুন্দর রাজপ্রাসাদ ও কয়েকটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। তার মধ্যে এখন মাত্র তিনটি মন্দির অবশিষ্ট আছে। প্রতিটি মন্দিরের উচ্চতা ৬০ ফুট। 

    এই শিবনিবাসে তাঁর রাজধানী প্রতিষ্ঠার একটি কাহিনী আছে। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র নসরত খাঁ নামক এক দুর্ধর্ষ ডাকাতকে দমন করতে মাজদিয়ার কাছে এক গহন অরণ্যে উপস্থিত হন। ডাকাতকে দমন করে সেখানে তিনি একরাত অবস্থান করেন। পরদিন সকালবেলায় তিনি যখন নদীতীরে উপস্থিত হন তখন একটি রুইমাছ জল থেকে লাফিয়ে মহারাজের সামনে এসে পড়ে। আনুলিয়া নিবাসী কৃষ্ণরাম নামক মহারাজের এক আত্মীয় তখন মহারাজকে বলেন, 'এ স্থান অতি রমণীয়, উপরন্তু রাজভোগ্য সামগ্রী নিজে থেকেই মহারাজের সামনে এসে হাজির হয়। তাই এই স্থানে মহারাজ বাস করলে মহারাজের নিশ্চয়ই ভাল হবে'। মহারাজও তখন বর্গীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে এই রকমই একটা নিরাপদ জায়গা খুঁজছিলেন। স্থানটি মনোনীত হলে তিনি কঙ্কনাকারে নদীবেষ্টিত করে স্থানটি সুরক্ষিত করেন। এই শিবনিবাসেই মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র মহাসমারোহে অগ্নিহোত্র বাজপেয় যজ্ঞ সম্পন্ন করেন। এই উপলক্ষ্যে কাশী, কাঞ্চি প্রভৃতি স্থান থেকে সমাগত পণ্ডিত মণ্ডলী তাঁকে 'অগ্নিহোত্রী বাজপেয়ী' আখ্যা প্রদান করেন। সেই সময়ে শিবনিবাস কাশীতুল্য বলে পরিগণিত হত। 


    কৃষ্ণচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত শিবনিবাসের মন্দিরগুলি বাংলা মন্দিররীতিতে উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এখানকার প্রথম দেবালয়টি 'রাজরাজেশ্বর' শিবমন্দির নামে পরিচিত। সাধারণের কাছে যা 'বুড়োশিবের মন্দির' নামে অভিহিত। এই মন্দিরটি বাংলার প্রচলিত মন্দিররীতির কোন শ্রেণীতে পড়ে না। উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, অষ্টকোণ প্রস্থচ্ছেদের এই মন্দিরের শীর্ষদেশ ছত্রাকার। খাড়া দেওয়ালের প্রতিটি কোণে মিনার আকৃতির আটটি সরু থাম। প্রবেশদ্বারের খিলান ও অবশিষ্ট দেওয়ালে একই আকৃতির ভরাটকরা নকল খিলানগুলি 'গথিক' রীতি অনুযায়ী নির্মিত। যার প্রতিষ্ঠাকাল ১৭৫৪ খ্রিষ্টাব্দ।

    পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় ৯ ফুটের কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ এখানে নিত্যপূজিত হয়। শিবলিঙ্গের উচ্চতার জন্য শিবলিঙ্গের মাথায় জল, দুধ ইত্যাদি ঢালবার জন্য সিঁড়ি আছে। সিঁড়ি দিয়ে উঠে বাবার মাথায় জল ঢেলে অপর দিক দিয়ে নেমে যেতে পারেন এবং শিবলিঙ্গের পূর্ণ প্রদক্ষিণ করতে পারেন। বর্তমানে অবশ্য শিবলিঙ্গের পূর্ণ প্রদক্ষিণ বন্ধ আছে। পাশেই রয়েছে 'রাজ্ঞীশ্বর' শিবমন্দির। এই মন্দিরটি উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত। বর্গাকার প্রস্থচ্ছেদের চারচালাযুক্ত এই মন্দির। প্রতিষ্ঠাকাল ১৭৬২ খ্রিষ্টাব্দ। মন্দিরে একটি প্রতিষ্ঠাফলক আছে। প্রতিষ্ঠাফলকে উৎকীর্ণ লিপি থেকে জানা যায় যে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের দ্বিতীয়া মহিষী স্বয়ং যেন মূর্তিমতী লক্ষ্মী ছিলেন। সম্ভবত এই মন্দিরটি মহারাজা তাঁর দ্বিতীয়া মহিষীর জন্য নির্মাণ করেছিলেন এবং প্রথমটি প্রথম মহিষীর জন্য। এই মন্দিরের শিবলিঙ্গ প্রথম মন্দিরের চেয়ে কিছুটা ছোট ( উচ্চতা সাড়ে সাত ফুট ) এবং পূর্বোক্ত মন্দিরের মত এখানেও শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢালবার জন্য সিঁড়ি আছে। এর পাশেই রয়েছে আরকটি রামসীতার মন্দির এটিও বেশ জনপ্রিয়।

    Editor | 14:18 PM, Mon Aug 07, 2023

  • Hiralal Sen: চিকিৎসার জন্য বন্ধক দিতে হয়েছিল ক্যামেরা, পুড়ে গিয়েছিল সব ছবির স্টক- কেমন ছিল হীরালালের শেষ জীবন?

    নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনক হিসেবে সারা ভারতে উঠে আসে দাদাসাহেব ফালকের নাম। কিন্তু সাল-তারিখ হিসেব করে দেখলে জানা যাবে ফালকের প্রথম ছবি ‘রাজা হরিশচন্দ্র’ মুক্তি পায় ১৯৩১ সালে আর তার ১০ বছর আগেই প্রথম নির্বাক ছবি বানিয়ে ফেলেছেন এক অশ্রুতকীর্তি বাঙালি। অথচ তার নাম চলচ্চিত্রের জনক হিসেবে একসময় স্বীকৃতিই পেত না। হতভাগ্য সেই মানুষটির নাম হীরালাল সেন। ‘রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানি’র প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেই তাকে মনে রেখেছে বোদ্ধা সিনেপ্রেমীরা।

    ১৮৯৮ সালে হীরালাল সেন তৈরি করেন তার ‘রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানি’। প্রথমে তার ভাই মতিলাল সঙ্গী হলেও শেষদিকে তার সঙ্গেও বনিবনা হচ্ছিল না, ব্যবসা থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি। বায়োস্কোপ কোম্পানি তৈরি হওয়ার পর প্রথম দিকে ময়দানেই তাঁবু খাটিয়ে ছবি দেখাতেন হীরালাল। কলকাতা শহরের বিভিন্ন চলমান দৃশ্য ক্যামেরায় তুলে নিতেন, তারপর বাংলা থিয়েটারের অমরেন্দ্র দত্তের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বেশ কিছু মঞ্চসফল নাটকের রেকর্ডিংও করেন তিনি। কেউ বলেন ১৮৬৬, মতান্তরে ১৮৬৮ সালে বাংলাদেশের মানিকগঞ্জের বগজুড়ি গ্রামে তার জন্ম হয়। হেমাঙ্গিনী দেবীর সঙ্গে বিয়ে হলেও পরে কুসুমকুমারী দেবীর সঙ্গে হীরালালের সম্পর্ক নিয়ে বেশ চর্চা শুরু হয়েছিল আর কুসুমকুমারীর প্রেমেই একসময় পতনের পথে হাঁটতে শুরু করেছিলেন হীরালাল সেন।

    আরও পড়ুন: Mohammad Rafi Death Anniversary: পথচারীকে হাতে তুলে দিয়েছিলেন নিজের জুতো! সঙ্গীতশিল্পীর আড়ালে কতটা হৃদয়বান ছিলেন রফি?

    হীরালালের পিসতুতো দাদা দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন যে হীরালাল শেষ বয়সে বখে গিয়েছিলেন। ক্লাসিক থিয়েটারের অভিনেত্রী কুসুমকুমারীর প্রেমে ডুবে নেশায় মত্ত হয়েছিলেন হীরালাল। সংসারী ছিলেন না, বিষয়ীও ছিলেন না, সংসারের রাশ ধরে রাখতেন হেমাঙ্গিনী দেবী। আর কুসুমকুমারীর সঙ্গে সম্পর্ক জানাজানি হওয়ার পর সংসারের সঙ্গেও দূরত্ব বাড়তে থাকে হীরালালের, অঢেল টাকা ওড়ানোর কারণে দারিদ্র্য চেপে বসে হীরালালের জীবনে। বেহিসেবি খরচের জন্য ভাই মতিলালের সঙ্গে মনোমালিন্য হয় হীরালালের, ভেঙে যায় সাধের রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানি। আর তার পর থেকেই অবসাদে ডুবে যান হীরালাল। ধরা পড়ে ক্যানসার। স্ত্রী হেমাঙ্গিনী নিজের গয়না, বাড়ির আসবাব বেচে স্বামীর চিকিৎসার খরচ জুগিয়েছেন একসময়, কিন্তু তাতেও মেটেনি জ্বালা।

    একসময়  নিজের সাধের ক্যামেরাটি বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করতে চেয়েছিলেন হীরালাল। জানতেন আর হয়ত ফেরা হবে না। ১৯১৭ সালে এভাবেই দুরারোগ্য মারণব্যাধিতে চলে গেলেন হীরালাল আর সেই বছরই আগুন লাগল মতিলাল রায়ের বাড়িতে। পুড়ে ছাই হয়ে গেল সমস্ত ছবির স্টক। হীরালালের হীরের খনিতে এখন যুগ যুগান্তরের কয়লার কালি! 

    Editor | 16:08 PM, Wed Aug 02, 2023

  • Vidyasagar: কলেরা রোগীদের সেবা থেকে নিখাদ হোমিওপ্যাথির চর্চা- চিকিৎসক বিদ্যাসাগরকে চেনেন কি? 

    সিমন রায়: বিদ্যাসাগরের নামটার সঙ্গে একাধারে যেমন জড়িয়ে আছে বিধবা বিবাহের অনুষঙ্গ, একইভাবে জুড়ে আছে নারীশিক্ষার প্রসঙ্গও। কিন্তু বিদ্যাসাগর যে চিকিৎসাও করতেন জানতেন কি? কলেরা রোগীদের সেবা করা থেকে শুরু করে নিজে হাতে কারমাটারের নিম্নবর্গের সাঁওতালদের রোগ নিরাময়ের জন্য হোমিওপ্যাথির চর্চা, বিদ্যাসাগরের জীবনের এই অধ্যায় এখনও অনেকের কাছেই অজানা।

    শোনা যায় জগদ্দূর্লভ সিংহের পরিচিত কিছু মানুষ একবার কলেরায় আক্রান্ত হয়েছে শুনে বালক ঈশ্বরচন্দ্র স্থানীয় গৃহস্থ বাড়ি থেকে তাদের জল এনে খাওয়ালেন, ডাক্তার রূপচাঁদের বাড়ি থেকে বেদানা, মিছরি, এক কলসি পরিষ্কার জল এনে রোগীদের খাওয়ালেন, নিজের হাতে বমি-মলমূত্র পরিষ্কার করে ধোয়া কাপড় পড়ালেন। আবার ১৮৬৬ সালে দুর্ভিক্ষ লাগলে কলকাতার কলেজ স্কোয়ার অঞ্চলে উপোসী মানুষকে নিজে হাতে খাবার পরিবেশন করেছিলেন।


    ১৮৬৯-৭০ সালে বর্ধমানে এক ভয়ানক জ্বরে প্রচুর মানুষ মারা যায়। সেই সময় আর্ত মানুষদের বিদ্যাসাগর সেবা ঔষধ পথ্য দিয়ে সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করেছেন। জানা গিয়েছিল আসলে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটছিল সকলের। ম্যালেরিয়া নির্মূল করার জন্য ডিসপেনসারি, ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করেই তিনি ক্ষান্ত হননি, বিদ্যাসাগরের ডিসপেন্সারি থেকে শুধু ওষুধপত্র নয়, পয়সা ও পরনের কাপড় পর্যন্ত পাওয়া যেত। এই ডিসপেন্সারির কাজে বিদ্যাসাগরকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিলেন প্যারীচাঁদ মিত্রের ভাইপো ডাক্তার গঙ্গা নারায়ণ মিত্র। ম্যালেরিয়া রোগীকে সেখান থেকে কুইনাইন দেওয়া হত প্রয়োজনে তাদের বাড়ি গিয়েও বিদ্যাসাগর স্বয়ং ওষুধ পথ্য পৌঁছে দিয়ে আসতেন।

    আরও পড়ুন: Mahasweta Devi: ‘লিখলে টাকা পাওয়া যায়…এটাই একমাত্র জিনিস যা আমি পারি’, শুধুই কি টাকার জন্য লিখতেন মহাশ্বেতা?

    জীবনের শেষদিকে কারমাটারের সাঁওতাল পল্লীতে যখন থাকতে শুরু করেন সেইসময় একদিন এক মেথর এসে জানায় যে তার স্ত্রীর কলেরা হয়েছে। শোনামাত্র এক মুহূর্ত দেরি করলেন না বিদ্যাসাগর। ভৃত্যকে সঙ্গে নিয়ে চলে গেলেন মেথরের বাড়ি ওষুধ দিয়ে, পথ্য দিয়ে সেই মেথরানি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি ছেড়ে বেরোলেন না। আবার একবার পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী একজায়গায় তার এক অভিজ্ঞতায় লিখছেন যে একদিন সকাল থেকে কারমাটারের সাঁওতালরা হাতে ভুট্টা নিয়ে আসছে বিদ্যাসাগরের কাছে। কারণ জিজ্ঞেস করে জানতে পারা গেল যে সাঁওতালদের একজন অসুস্থ হয়ে পড়ে ক্ষেতের মধ্যে, নাক দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। বিদ্যাসাগর সেই শুনেই ছুটে গিয়ে তার চিকিৎসা করেন। আর তাই তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই ভুট্টা উপহার! 

    Editor | 15:40 PM, Sat Jul 29, 2023

  • Satyajit Ray Classics: সত্যজিতের ছবি কিনবে মার্কিন কোম্পানি! 

    নিউজ ডেস্ক:  সত্যজিৎ রায়ের তিনটি ছবির স্বত্ব কিনতে চাইছে মার্কিন চলচ্চিত্র পরিবেশক সংস্থা। সেই ছবিগুলির তালিকায় আছে ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ এবং ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’। কলকাতা-কেন্দ্রিক যে সংস্থা এই তিনটি ছবি প্রযোজনা করেছিল, সেই সংস্থার কর্ণধার জানাচ্ছেন ছবিগুলির আসল নেগেটিভ সংরক্ষণ করা এরখন দুষ্কর হয়ে উঠেছে। আর তাছাড়া বেশ কয়েক বছর ধরের প্রায়ই কোনোরকম স্বীকৃতি কিংবা রয়্যালটি ছাড়াই ছবি প্রদর্শনের জন্য প্রচুর অনুরোধ এসেছে যা এককথায় তাকে বেশ বিরক্তই করেছে। আর তাই কি মার্কিনি সংস্থার কাছে স্বত্ব বিক্রি করে দিতে চলেছেন তিনি? 

    বলাই বাহুল্য ছবি তিনটির প্রযোজনা করেছিলেন অরিজিত দত্তের পূর্বপুরুষ। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অরিজিত দত্ত জানান, ইতিমধ্যেই মার্কিন মুলুকের জানুস ফিল্মসের সঙ্গে তার কথা হয়ে গিয়েছে। এই জানুস ফিল্মস মূলত আন্তর্জাতিক স্তরের সবরকম আর্টহাউস ঘরানার ছবিকে মার্কিন দর্শকদের কাছে পরিচিত করে তোলে। মাইকেলেঞ্জেলো আন্তোনিওনি, ইঙমার বার্গম্যান, ফেদেরিকো ফেলিনি প্রমুখ খ্যাতনামা চিত্র পরিচালকদের ছবির স্বত্ব নিয়ের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে এই প্রযোজনা সংস্থার। তিনি বলেন প্রথম যখন সত্যজিৎ রায়ের ছবির স্বত্ব বিক্রি করার প্রস্তাব আসে এক মাস আগে, সিদ্ধান্ত নিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল তাকে। নিজের বাড়িতে ছবির আসল নেগেটিভ সংরক্ষণ করতে সমস্যা হচ্ছিল অনেকদিন ধরেই। তাঁর কথায়, ’২৪ ঘন্টা ডাবল এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থায় সেই নেগেটিভগুলিকে রাখতে হয়। আগে বম্বে ল্যাবরেটরিতে সেই নেগেটিভগুলি সংরক্ষণ করা হত। ১৯৯০ সালে সেই ল্যাব বন্ধ হওয়ার পরে তাকে নিজেকেই সেই সংরক্ষণের দায়িত্ব নিতে হয়। অরিজিত বলেন যে, ‘গুপী গাইনের শেষ রিলটি ছিল রঙিন। কিন্তু সেটা হারিয়ে গিয়েছে। যেহেতু আমার কাছে একটা মাস্টার পজিটিভ ছিল সেই জন্যে ছবিটিকে পুনরুদ্ধার করা গিয়েছে। নাহলে ছবিটা চিরদিনের মত হারিয়েই যেত।’ 

    আরও পড়ুন: Uttam Kumar Death Anniversary: সারারাত বাথরুমেই কাটিয়েছিলেন মহানায়ক, কিসের ভয়ে লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল উত্তমকুমারকে?  

    আসল নেগেটিভ সংরক্ষণ করা মোটেও সহজ কাজ নয়। যথেষ্ট দুশ্চিন্তা থেকেই যায় আর তাই নিজে তিনি আর সেই দায়িত্ব নিতে চান না। শুধু তাই নয়, স্বীকৃতির জায়গা থেকেও একটা হতাশা ঘিরে ধরেছে তাকে। গত বছর ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে যখন ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ ছবিটির ফোর-কে ভার্সন প্রকাশ করা হয় এবং সেটাই কান চলচ্চিত্র উৎসবে যায়, তখন একপ্রকার বঞ্চিতই হন অরিজিত-পরিবার। তাঁর কথায় জানা যায়, এখন কেবলমাত্র প্রিয়া সিনেমাহলে সত্যজিতের ছবিগুলি প্রদর্শনের অনুমতি রয়েছে তার কাছে।

    ১৯৬৯ সালে যখন ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ মুক্তি পায় পিয়ালি পিকচার্সের পক্ষ থেকে ছবিটির পরিবেশনার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছিল। মিনার, বিজলী, ছবিঘর, গ্লোব ইত্যাদি প্রেক্ষাগৃহে রমরমিয়ে ১০২ সপ্তাহ চলেছিল সেই ছবিটি। অন্যদিকে ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ এবং ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ ছবিটিও পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭০ সালে মুক্তি পায় চার মাসের ব্যবধানে। সেই ছবিগুলিও বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল সেই সময়।

    Editor | 11:31 AM, Fri Jul 28, 2023